Tareq Rahman China Visit - China Bangladesh Relation

তারেক রহমান চীন সফর

৫ আগস্ট ২০২৪ শেখ হাসিনা পালিয়ে ভারতের দিল্লীতে আশ্রয় গ্রহণ করে। ৮ আগস্ট ২০২৪ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তবর্তী সরকার দেশ পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করে। ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি জোট সরকার গঠন করে।
২১ জুন ২০২৬ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথম বিদেশ সফর করেন মালয়েশিয়া। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহীমের আমন্ত্রণে এই সফর। মালয়েশিয়ায় সংক্ষিপ্ত সফর শেষে তারেক রহমান ২২ জুন চীনের দালিয়ানে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের ‘নিউ চ্যাম্পিয়নস’ এর ১৭তম বার্ষিক সভায় যোগদান করেন।
সরকার প্রধানের দায়িত্ব নেয়ার পর চীন ও মালয়েশিয়া সফর তারেক রহমানের প্রথম রাষ্ট্রীয় সফর এবং সফল এই সফর। রাজনৈতিকভাবে সিদ্ধান্তটি কুটনৈতিক বিবেচনায় উত্তম হয়েছে। ২৩ জুন ২৬ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইকোনমিক ফোরামের কয়েকটি সেসনে অংশগ্রহণ করেন এবং বক্তব্য প্রদান করেন। ২৪ জুন তিনি দালিয়ান থেকে ট্রেনে বেইজিং পৌছান। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিং এবং প্রধানমন্ত্রী লি রিয়াং সঙ্গে পৃথকভাবে বৈঠক করেন। এই সফর খুবই সংক্ষিপ্ত হয়েছে। তিনি ফিরে আসেন ২৬ জুন।
চীনের প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও চীনের পানি সম্পদমন্ত্রী লি পোরেইং সঙ্গে তারেক রহমান বৈঠক করেন। চীনের প্রধান প্রধান শিল্প মালিকদের সঙ্গেও তিনি বৈঠক করেন। নতুন বিনিয়োগ ছিল এর উদ্দেশ্যে।
উভয় দেশের আলোচনার পর রাষ্ট্রীয় ইশতেহার প্রকাশিত হয়েছে। তাতে উভয় দেশ অভিন্ন ভবিষ্যত এবং অংশীদারিত্ব প্রতিষ্ঠার কথা বলেছেন। ঘোষণায় চীন সরকার বাংলাদেশের জাতীয় স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখন্ডতার কথা সমুন্নত রাখার এবং বিদেশী যে কোন হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা দিয়েছে। এশিয়ার ও বৈশ্বিকি ভূরাজনীতিতে চীনের সমর্থন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিশ্বে যে কোনো পরিবর্তন আসুক, চীন বাংরাদেশের ‘বিশ্বস্ত ভালো বন্ধু, সুপ্রতিবেশী এবং নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে পাশে থাকবে বলে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বৈঠকে উল্লেখ করেছেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বৈঠকের পর আসা প্রকাশ করেন চীন বাংলাদেশের উন্নয়নে মূল্যায়ন ও বিশ্বস্ত উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে ভবিষ্যতে সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে। চীন তাদের উচ্চমানের অঞ্চল ও বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ এগিয়ে নেয়া, অর্থনীতি, বাণিজ্য, কৃষি, প্রযুক্তি, যোগাযোগ, সবুজ বনায়ন শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধি করবে।

চীনের সহযোগিতার আশ্বাস: রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে চীনের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। সরকার প্রধান ও মন্ত্রীপর্যায়ে আলোচনায় অর্থনৈতিক সহযোগিতা, বিনিয়োগ, বাণিজ্য সম্প্রসারণ, অবকাঠামো উন্নয়ন, পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়।

প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এর প্রস্তাব : বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরে বড় অর্জন হচ্ছে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক ও নানা উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে আলোচনা।
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ও যোগাযোগ করিডোর স্থাপন ও বাস্তবায়নের প্রস্তাব দিয়েছেন। উক্ত করিডোর বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের সড়ক ও রেলওয়ে, বন্দর তার বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে চীনার বিনিয়োগ আসার নতুন করে সুযোগ সৃষ্টি হবে। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণপূর্ব এশিয়া ও চীনের বাজারে বাংলাদেশী পণ্যের বাজার সম্প্রসারিত হবে।
চীন বাংলাদেশের মোংলা সমুদ্র বন্দর উন্নয়নে ও আধুনিকরণের জন্য ৪০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের ঋণের প্রকল্প চালু করবে।
চীন তিস্তা মহাপ্রকল্প বাস্তবায়নে পুনরায় তাদের আগ্রহ প্রকাশ করেছে। অন্যদিকে ব্রিকস-এ বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তি বিষয়টি চীন নতুন করে সমর্থনের কথা বলেছে।

১৭টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর : মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরকালে ১৭টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর অনুষ্ঠান হয়। এই সমঝোতার মধ্যে ১৩টি দুই দেশের মন্ত্রণালয় পর্যায়ে এবং ৩টি বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) সঙ্গে চীনের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের এবং একটি হচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও চীনের কমিনিস্ট পার্টির মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক।
প্রধানমন্ত্রীর এই চীন সফর দেশের অর্থনীতি গতি নতুন করে বৃদ্ধি পাবে। বিভিন্ন প্রকল্পে চীন ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এই সফরের ফলে চীন বাংলাদেশ সম্পর্ক নতুন এক উচ্চতায় নিয়ে যাবে।

চীন-বাংলাদেশ ঐতিহাসিক সম্পর্ক : বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে ১৯৭১ সালে ১৬ ডিসেম্বরের বিজয় দিবসের মাধ্যমে। তখন চীন বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়নি। ১৯৭১ সালে গণচীন বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়নি। ১৯৭৫ সালে গণচীন বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে। একই বছর তথা ১৯৭৫ সালে বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের কুটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয়। রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে চীনের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক তৈরি হয় শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাসনে তথা ১৯৭৭ সালে। ১৯৭৭ সালে তৎকালীন সেনা প্রধান এবং প্রধান সামরিক আইন প্রশাসন মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান চীন সফর করেন। চীনা প্রধানমন্ত্রী চৌ এনলাই বিমান বন্দরে জিয়াউর রহমানকে স্বাগত জানান। ১৯৮০ সালে প্রেসিডেন্ট হিসাবে জিয়াউর রহমান আবার চীন সফর করেন। তাই চীনের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক বহু পুরাতন ও গভীর।
১৯৭৫ সালে চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের কুটনৈতিক সম্পর্ক সৃষ্টি হয়। দীর্ঘপথচলা চীন আমাদের বন্ধু হয়ে আছে। বিদেশী রাষ্ট্রের চীনের সম্পর্কের নীতি মৌলিক নীতি হচ্ছে সব ধরনের সরকারের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা এবং বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক স্বার্থকে সবার ওপরে স্থান দেয়া।

বেগম জিয়ার চীন সফর : বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের তিনবারের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। আপোষহীন নেতৃত্ব জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করেছেন। রাজনীতিতে কখনও আপোষ করেননি। দেশ ও ত্যাগ করেননি। তাই দেশের মানুষ তাকে মনে রেখেছে। মৃত্যুর পর লক্ষ লক্ষ জনতা তাঁর জানাজায় শরীক হয়ে প্রমাণ করেছে, তিনি কত বড়, কত মহান, কত সম্মানীয় ছিলেন। বেগম খালেদা জিয়া শাসনকালে বেশ কয়েকবার চীন সফর করেন। দেশের অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে চীনের অংশগ্রহণকে তিনি বহুভাবে ত্বরান্বিত করেন।
সর্বশেষ ২০১৬ সালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বাংলাদেশ সফর করেন। সেই সময় বাংলাদেশে অবকাঠামো, জ¦ালানি ও শিল্পখাতে চীনের অর্থায়নে বেশ কয়েকটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। সামরিক, স্বৈরাচার বা অগণতান্ত্রিক যে কোন সরকারের সঙ্গে চীন সব সময় কাজ করে গিয়েছে। চীনের অর্থায়ন একেবারে বন্ধ হয়ে যায়নি। কখনো বেড়েছে, কখনো কমেছে মাত্র।

চীন বাংলাদেশের বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার : চীন আমাদের বড় বাণিজ্যিক অংশীদার। চীনের বড় বিনিয়োগ নিয়ে আমাদের বড় প্রকল্প। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে চীন থেকে আমদানী হয়েছে ২২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। অন্যদিকে চীনে রপ্তানি হয়েছে মাত্র ৮৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। আমদানীর অধিকাংশ পণ্য হচ্ছে শিল্পের কাঁচামাল, যন্ত্রপাতি, রপ্তানি পণ্যের অর্থ আমাদের খুবই কম। রপ্তানিতে আমাদের বৈচিত্র্য নাই।

চীনের বড় বড় বিনিয়োগ : ২০১৫ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত চীনের বাংলাদেশে বিনিয়োগের পরিমাণ হচ্ছে প্রায় ৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি। অধিকাংশ বিনিয়োগ অবকাঠামোগত খাতে। চীনের উল্লেখ্যযোগ্য বিনিয়োগ হয়েছে পদ্মা সেতু, রেল সংযোগ, পায়ারা তাপ বিদ্যুত কেন্দ্র এবং কর্ণফুলী চ্যানেল। যদিও কর্ণফুলী ট্যানেল প্রকল্প একটি অলাভজনক প্রকল্প হিসেবে দেশের বড় বোঝা আজ।
চীনের ঋণ সহায়তায় বেশ কয়েকটি প্রকল্প চলমান। এই সকল প্রকল্প চালু রাখতে হবে। কিছু প্রকল্প বন্ধ রয়েছে। তা চালু করার উগ্যোগ নিতে হবে। ঋণের সুদের হার কমানোর জন্য সরকারকে উদ্যোগ নিতে হবে। ঋণের সময়সীমাও বাড়াতে হবে।

চীন বাংলাদেশ বাণিজ্য ঘাটতি : বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ হচ্ছে ২২ থেকে ২৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। আমদানীর তুলনায় রপ্তানি খুবই সামান্য। আমাদের বাণিজ্য ঘাটতি ২২ বিলিয়ন ডলার। চীন বাংলাদেশকে ৯৭ শতাংশ পণ্যে শুল্কমুক্ত রপ্তানি সুবিধা প্রদান করেছে। চীনে আমদানী খুবই কম। আমাদের দেশের ব্যবসায়ীগণ তেমন রপ্তানি সুবিধা গ্রহণ করতে পারছেন না।
বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর জন্য আমাদেরকে উচ্চ মূল্যের, উচ্চমানের তৈরি পোশাক রপ্তানির উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। চামড়া,চামড়াজাত পণ্য, সামুদ্রিক মাছ, পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি বৃদ্ধির জন্য সরকারকে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। অন্যদিকে বর্তমান সরকারের নতুন সমঝোতা অনুযায়ী কৃষিপণ্য ও ঔষধ রপ্তানি শুরু হলে বাণিজ্য ঘাটতি ২ থেকে ৩ শতাংশ কমার সম্ভাবনা রয়েছে।

চীনের অনুদান : চীন আমাদেরকে সুদের বিনিময়ে ঋণ সুবিধা দিচ্ছে। এই সকল ঋণ সুবিধা দিয়ে আমাদের বড় প্রকল্পসমূহ বাস্তবায়িত হচ্ছে। ঋণ সুবিধা ছাড়াও চীন বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় অনুদান সহায়তা দিয়েছে। চীনের অনুদানে ৯টি বড় প্রকল্প ও বেশ কিছু মাঝারি প্রকল্প রয়েছে। দৃশ্যমান অনুদানে নির্মিত প্রকল্পসমূহ হচ্ছে- বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সেতু, ঢাকার বাংলাদেশ চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র ও পূর্বাচলে আন্তর্জাতিক ট্রেড ফেয়ার সেন্টার।
বাংলাদেশে বিপুল পরিমাণ চীনা প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন খাতে ব্যবসা বাণিজ্য করছে। বিনিয়োগ করেছে। তৈরি পোশাক, বিদ্যুত, নির্মাণ, তথ্য প্রযুক্তি খাতে বহু চীনা প্রতিষ্ঠান কাজ করছে। চীনাদের প্রতিষ্ঠানের কারণে হাজার হাজার বাংলাদেশী কর্মসংস্থান হয়েছে।
আইটি সেক্টরে চীনের বিনিয়োগ রয়েছে। টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক, ফাইবার অপটিক অবকাঠামো, ডাটা সেন্টার, ক্লাউড কম্পিউটিং এবং স্মার্ট প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান চীনা প্রযুক্তির ব্যাপক ব্যবহার করা হচ্ছে। দেশের ইলেকট্রনিক পণ্য, ল্যাপটপ, কম্পিউটার, মোবাইল ফোনসহ নানা প্রযুক্তি নির্ভর পণ্য উৎপাদনে চীনা প্রযুক্তি, যন্ত্রপাতি, কাঁচামাল একমাত্র চীনাদের।
এমনকি কৃষি খাতেও চীনের অবদান অনেক। প্রযুক্তির ব্যবহার, উচ্চফলনশীল বীজ, আধুনিক কৃষি যন্ত্র বাংলাদেশে কৃষি বিপ্লবে বড় ভূমিকা রেখে চলেছে।

তারেক রহমান চীন সফরের অর্জন : বাংলাদেশে প্রথমবারের মত তারেক রহমান জাতীয় সংসদে নির্বাচিত হয়ে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের পর ভূ-রাজনীতিতে তারেক রহমান চমক দেখিয়েছেন। কৌশলগত আদেশ সফর তারেক রহমান অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছে। তিনি রাজনীতির মধ্যমণি রূপে আর্বিভূত হয়েছেন। প্রথমে মালয়েশিয়া ও পরে চীন সফর বাংলাদেশের কুটনৈতিক বিজয় আমরা দেখতে পাচ্ছি।
চীন সফরের মাধ্যমে বিএনপি সরকার অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে একটি বৃহৎ দেশের আস্থা অর্জন বড় সাফল্য। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক স্থাপনে চীন সফর দেশ অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে গিয়েছে।
চীন সফরের পর বেশ কিছু নতুন চুক্তিতে চীন বাংলাদেশকে বিনিয়োগ করবে। পুরাতন প্রকল্পগুলো আবার চালু হচ্ছে। স্থগিত হওয়া প্রকল্পগুলো চালু হচ্ছে। চীন নতুন সরকারকে আশ্বাস্ত করেছে যে, বাংলাদেশের চীনের দীর্ঘমেয়াদী কৌশলগত অগ্রাধিকারে অংশ হিসেবে থাকবে। অন্যদিকে স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব রক্ষায় চীনের অঙ্গীকার তারেক রহমান সরকারকে শক্তি যুগিয়েছে। ভূ-রাজনীতিতে কৌশলগতভাবে এগিয়ে গিয়েছে।
মোংলা সমুদ্রবন্দর আধুনিকায়ন, তিস্তা মহাপ্রকল্প বাস্তবায়নে চীনের আশ্বাস বড় অর্জন। বাংলাদেশ মিয়ানমার চীন অর্থনৈতিক করিডোর নির্মাণের প্রস্তাব বাংলাদেশের জন্য বড় অর্জন। ভারত, যুক্তরাষ্ট্রসহ বড় দেশগুলোর চিন্তার ক্ষেত্রে এই সকল প্রস্তাব ও উদ্যোগ বড় ধরনের ভূমিকা রাখবে। বাংলাদেশের অবস্থানকে শক্তিশালী করেছে।

আমাদের সতর্ক অবস্থান : অর্জনকে ধরে রেখে উন্নয়নের দিকে এগিয়ে যাওয়া একটি রাষ্ট্রের বড় কাজ। বাংলাদেশে চীনের বিনিয়োগে বেশ সতর্ক থাকতে হবে। বিশেষ করে অর্থনৈতিক রিটার্ন ইআর প্রাপ্তির ক্ষেত্রে বেশ সতর্ক থাকা প্রয়োজন রয়েছে।
ঋন গ্রহণ যেমন কঠিন, তার চেয়ে কঠিন ঋণ সময়মতো ফেরত দেয়া। ঋণে ঘটিত প্রকল্প সমূহকে লাভজনক করা চ্যালেঞ্জ। সতর্ক থাকতে হবে চীনের বিনিয়োগে ঋণের ফাঁদে যাতে আমরা না পড়ি। যেমন পড়েছিল শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান ও আফ্রিকার কয়েকটি দেশ। এই সকল দেশের অভিজ্ঞতাকে আমাদের বেশ কাজে লাগাতে হবে।
বিনিয়োগ কাজে লাগাতে হলে দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, প্রশাসনিক সক্ষমতা, নীতির ধারাবাহিকতা ও আইনের সুশাসন অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে।

রাজনৈতিক সতর্কতা : বাংলাদেশের কূটনীতি উদার। সকলের সঙ্গে সহঅবস্থান, কারো সঙ্গে বৈরিতা নয়। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে এই নীতি দেশের নেতারা অনুসরণ করছেন। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের পররাষ্ট্রনীতি এই আদর্শের উপর প্রতিষ্ঠিত। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও এই নীতি অনুসরণ করে দেশ পরিচালনা করে গিয়েছেন। আর বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও শহীদ জিয়া ও বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শ অনুসরণ করলেন। দেশ সেই জন্য কুটনৈতিকভাবে স্বল্প সময়ের মধ্যে একটি ভালো অবস্থানে রয়েছে।
চীনের সঙ্গে তারেক রহমানের সরকার সম্পর্ক আরও জোরদার করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। অন্যদিকে আমাদের সর্ববৃহৎ প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে বিদ্যমান সমস্যা নিরসন করে পারস্পারিক সম্পর্ক উন্নয়নে ব্যাপক উদ্যোগগ্রহণ করা হয়েছে।
বিগত অন্তবর্তী সরকার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি বাণিজ্য চুক্তি করে গিয়েছেন। বর্তমান সরকার বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি ও কুটনীতিতে আস্থার সঙ্কট কাটিয়ে উঠে দেশের স্বার্থ অক্ষুন্ন রেখে সকলের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ ও বন্ধুত্বমূলক সম্পর্ক স্থাপনে প্রশাসনিক ও কুটনৈতিক সামর্থ্য বৃদ্ধির চেষ্টা করছেন। আভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার শুরু থেকে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। সকল রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সহঅবস্থান নিশ্চিত করে দেশের গণতান্ত্রিক ধারাকে মজবুত করার চেষ্টা করছেন।
সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারো সঙ্গে বৈরিতা নয়- এই নীতি বর্তমান সরকার অনুসরণ করছেন।

Abul Quasem Haider
আবুল কাসেম হায়দার

সাবেক সহ সভাপতি এফবিসিসিআই, বিটিএমইএ, বিজিএমইএ , বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতি, প্রতিষ্ঠতা চেয়ারম্যান ইস্টার্ন ইউনির্ভাসিটি ও ইসলামিক ফাইন্যান্স এন্ড ইনভেস্টমেন্ট লি:, অষ্ট্রেলিয়ান ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, আবুল কাসেম হায়দার মহিলা কলেজ সন্দ্বীপ, চট্টগ্রাম, সাবেক সিনেট সদস্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

তিনি আজীবন সদস্য : এশিয়াটিক সোসাইটী বাংলাদেশ, বাংলা একাডেমী, চট্টগ্রাম সমিতি, সন্দ্বীপ সমিতি ঢাকা ।

লেখক সাপ্তাহিক প্যানোরামা সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন।

0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments