আমাদের বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের কর্মসূচির উদ্দেশ্য হচ্ছে। ব্যক্তিগত ও সামষ্টিকভাবে মানুষের প্রতিভা ও নিজস্ব ক্ষমতার পূর্ণ সদ্ব্যবহারের ব্যবস্থা করা। যে জন্য জনগণকে রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক ইউনিটে সুসংগঠিত করা এবং সর্বনিম্ন গ্রাম পর্যায়ে সংগঠন গড়ে তোলার জন্য বহুদলীয় গণতন্ত্রের ধারণাকে কাজে লাগানো।
রাজনৈতিক দর্শন রাজনৈতিক আদর্শের জন্য যথেষ্ট নয়। সেই রাজনীতি আপনাদেরকে ধাবিত করবে একটি সামাজিক অর্থনৈতিক কর্মসূচির দিকে। সেই সামাজিক অর্থনৈতিক কর্মসূচির দিক যদি একটি রাজনৈতিক আদর্শ আপনাদের ধাবিত না করে তাহলে সেই রাজনৈতিক দর্শন অসম্পূর্ণ থেকে গেল।
আমাদের দর্শনের টার্গেট হলো জনগণ এবং সেই জনগণ টার্গেট হিসেবে তৈয়ারি করতে হবে। সংগঠন করতে হবে। সংগঠন করে বিপ্লব ধারণ করতে হবে। শান্তিপ্রিয় বিপ্লব। সেই বিপ্লবে আমাদের দর্শনের স্বপ্নের চরম লক্ষ্য হলো শোষণমুক্ত সমাজ ব্যবস্থা কায়েম করা।
-শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান।
তখন আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র, যখন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান দেশের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। ১৯৭৩-৭৪ সেশনে আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগে অনার্সে ভর্তি হই। তখন মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান ছিলেন সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ড. ইয়াজ উদ্দিন আহমদ। এর পূর্বে তিনি ছিলেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের চেয়ারম্যান এবং ১৯৯১ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করেন।
কালুঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে :
আমি তখন সবে মাত্র এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে চট্টগ্রাম সরকারি কলেজে এইচএসসি বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হই। সন ১৯৬৯ সাল। প্রথম বিভাগে ৫ বিষয় লেটার মার্ক নিয়ে এসএসসি পাস করি।
১৯৭১ সালে ৭ মার্চের পর সকল স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হয়ে যায়। আমিও তাই চট্টগ্রাম থেকে গ্রামের বাড়িতে চলে যাই। গ্রাম আমার চট্টগ্রাম জেলার সন্দ্বীপ উপজেলা মগধরা গ্রাম।
সারাদেশে তখন আন্দোলন শুরু হয়েছে। স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়সহ শ্রমিক জনতা তখন সার্বিক আন্দোলনে জড়িত হয়ে পড়ে।
যখন পূর্ব পাকিস্তান ও পশ্চিম পাকিস্তানের নেতাদের মধ্যে ঢাকা-হোটেল ইন্টার কন্টিনান্টালে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীত্ব এবং ক্ষমতার ভাগ বাটোয়ারা নিয়ে আলোচনা হচ্ছিল এবং সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ইয়াহিয়া ভুট্টোর সঙ্গে শেখ মুজিবের আলোচনার অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে তখন কিছুই পরিষ্কার ছিল না এবং পাকিস্তানী শাসকগোষ্ঠীর জাতিকে এক সিদ্ধান্তহীনতার জালে আটকে রেখেছিল। তখনই চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে বজ্রকণ্ঠে ঘোষণা এসেছিল “আমি মেজর জিয়া বলছি।” এ ঘোষণা তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের সাড়ে সাত কোটি মানুষ শুনেছিল যে মেজর জিয়া রেডিওতে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা দিলেন। আমি সন্দ্বীপ বসে জিয়ার এই ঘোষণা নিজ কানে শুনতে পেয়েছি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় স্মৃতি :
১৯৭৪ সাল বাংলাদেশের ইতিহাসে অতি স্মরণীয়। তখন দেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করে শেখ মজিবুর রহমান। পরবর্তীতে শেখ মজিবুর রহমান বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ১৯৭৫ সালে ১৫ আগস্ট এক সেনা বিদ্রোহে পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে শেখ মজিবর রহমান নিহত হন। ১৫ আগস্টের পর খন্দকার মুশতাক আহমদ শাসন ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হন। এবং শেখ মজিবুর রহমান ঘোষিত বাকশাল নিষিদ্ধ করেন। ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহী জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে জেনারেল জিয়া ক্ষমতাসীন হন। প্রথমে তিনি উপ প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক নিযুক্ত হন। ১৯৭৬ সালে ২১ এপ্রিল বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। ১৯৭৮ সালে জুন মাসে প্রত্যক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।
১৯৭৪ সালে আমি ফজলুল হক মুসলিম হলের আবাসিক ছাত্র ছিলাম। তখন দুর্ভিক্ষের সময়। আমরা হলে খেতাম দুপুরে এক বেলা ভাত। রাতে আমাদের খেতে হতো আটার রুটি।
ফজলুল হক মুসলিম হলে রঙিন টিভি :
তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সকল আবাসিক হলে সাদা কালো টেলিভিশন ছিল। জিয়াউর রহমান ক্ষমতা আসার পর প্রথমে বাংলাদেশ টেলিভিশনকে রঙিন টেলিভিশনে রূপান্তর ঘটলো। জিয়া ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় সকল হলে রঙিন টেলিভিশন উপহার দিলেন। দলে দলে আমরা রঙিন টেলিভিশনে নানা অনুষ্ঠান উপভোগ করতাম।
মৌচাকে যুব জাম্বুরি অংশগ্রহণ :
আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী থাকা অবস্থায় আরও একটি আন্তর্জাতিক যুব সম্মেলনে অংশগ্রহণ করার সুযোগ পেয়েছিলাম। যেটি হয়েছিল মৌচাক স্কাউট জাম্বুরাতে। ভারত, পাকিস্তান, মালয়েশিয়া সহ বহু দেশের যুব সমাজ এই জাম্বুরীতে অংশগ্রহণ করে। সম্ভবত এই জাম্বুরা হয়েছে ১৯৭৯ সালের কোন এক শীতের মাসে। আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রোভার স্কাউটের সদস্য ছিলাম। রোভার স্কাউটের পক্ষ থেকে আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উক্ত অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করি। প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এই যুব সম্মেলনের উদ্বোধন করেন। পাঁচ দিন ব্যাপী এই যুব সম্মেলনে মালয়েশিয়ার আনোয়ার ইব্রাহীম অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। বিভিন্ন গ্রুপ মিটিংয়ে তিনি অংশগ্রহণ করেন। তিনি তখন মালয়েশিয়ার যুব নেতা ছিলেন। বর্তমানে তিনি মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন।
উক্ত অনুষ্ঠানে জিয়াউর রহমানকে সরাসরি সাক্ষাতের এবং তার মূল্যবান বক্তব্য শোনার সুযোগ হয়েছিল। এই যুবকদের দিকে তাকিয়েই জিয়াউর রহমান সত্যিকারের স্বপ্ন দেখতেন, “আমি যদি না থাকি, আমার উত্তরাধিকারী হিসেবে এই যুবকরা বাংলাদেশের স্বাধীনতার আজাদীর ঝান্ডাকে প্রগতি এবং উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিয়ে যাবে।”
শিক্ষা বিষয়ক ওয়ার্কসপে অংশগ্রহণ :
১৯৭৯ সালের কথা। তখন আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগে অনার্সের শেষ বর্ষের ছাত্র। কাজি জাফর আহমদ তখন বাংলাদেশ শিক্ষামন্ত্রী। বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁও সরকারী অফিসের একটি কক্ষে জাতীয় ভিত্তিক একটি শিক্ষা সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। শিক্ষামন্ত্রী কাজী জাফর আহমদ তাতে সভাপতিত্ব করেন। তখন রাষ্ট্র প্রধান জিয়াউর রহমান উক্ত শিক্ষা সেমিনারে বক্তব্য রাখেন। আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী হিসেবে উক্ত শিক্ষা সেমিনারে অংশগ্রহণ করি। অনুষ্ঠানের তারিখ আমার আজ মনে নেই। ঐ সেমিনারে জিয়াউর রহমান দেশের শিক্ষা সংস্কার ও উচ্চ শিক্ষা বিষয়ে তার দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন। কালো চশমা পরিহিত জিয়াকে তখন দেখে আমাদের মধ্যে আনন্দের এক অনির্বান প্রবাহ বহিতে থাকে। আমরা দেশ গড়ার ব্যাপারে শিক্ষাকে জীবনের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে গ্রহণ করতে বেশ উৎসাহিত হয়ে উঠি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের অন্যান্য বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক ও সমাজের শিক্ষানুরাগীগণ উক্ত শিক্ষা সেমিনারে অংশগ্রহণ করেন। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে স্বচক্ষে সামনাসামনি দেখার ঐ আমার পরম সুযোগ ছিল। নিজকে আজ আমার অনেক পাওয়ার পরম পাওয়া মনে হয়।
ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী ১৯৭১ সালের নভেম্বর মাসে নিউইয়র্ক সফরকালে কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে এক ভাষণে বলেন, This other country his pushed across the border people who did not vote for their government but voted for the regime they wanted there was no other rime which these people have committed. Because the cry for independence arose after sheikh Mujib was arrested and not before. He himself, so for as I know has not asked for independence, even how.
১৯৭৯ সালে প্রেসিডেন্ট জিয়া ভারত সফরের সময় ২৭ ডিসেম্বর তাঁর সম্মানে ভারতের তখনকার রাষ্ট্রপতি সজ্জিত রেড্ডি এক ভোজসভার আয়োজন করেন। উক্ত ভোজ সভায় রাষ্ট্রপতি রেড্ডি বলেন,your position is already assured in the annals of the history of your country as the brave freedom fighter who was the first to declar independence of Bangladesh. (অধ্যাপক সামসুল হকের লেখা Bangladesh in International politics, Page 96).
১৯৭১ সালে ১১ এপ্রিল তদানীন্তন প্রধানমন্ত্রী জনাব তাজউদ্দিন আহমদ স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে জনগণের উদ্দেশ্যে প্রদত্ত ভাষণে তাজউদ্দিন আহমদ বলেন, “লড়াইরত আমাদের বাহিনীর চমৎকার সাফল্য এবং প্রতিদিন তাদের শক্তির সঙ্গে জনবলের বৃদ্ধি এবং দখলীকৃত অস্ত্র গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারকে যা মেজর জিয়াউর রহমানের মাধ্যমে ঘোষিত হয়- সক্ষম করেছে পূর্ণাঙ্গ অপারেশনাল বেস প্রতিষ্ঠা করতে, সেখান থেকে মুক্তাঞ্চলের প্রশাসনিক কর্মকান্ড পরিচালিত হচ্ছে।”
তাজউদ্দিন আহমদ জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে গড়ে উঠা প্রতিরোধের প্রশংসা করে- বলেন, “স্বাধীনতার ইতিহাসে এই প্রতিরোধ স্টালিন গ্রাডের পাশে স্থান পাবে।
আমি তখন চট্টগ্রামে :
১৯৮১ সালে চাকরি নিয়ে আমি চট্টগ্রামে তখন অবস্থান করছি। কাস্টম ইন্টেলিজেন্স এন্ড ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্টে কর্মরত অফিসার। আগ্রাবাদ আমাদের অফিস। তখন চাকরিতে কর্মরত। কোন রাজনীতিতে ছিলাম না। তবে জিয়াকে ভালবাসতাম। কারণ বিশ্ববিদ্যালয় থাকাকালীন আমার বন্ধু গোলাম ছারওয়ার মিলনের সঙ্গে ছাত্রদলের কিছু অনুষ্ঠানে অংশ নিতাম। পরবর্তীতে গোলাম ছারওয়ার মিলন জাতীয় পার্টি থেকে শিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। নানা চেষ্টা করেও পরে মিলন বিএনপিতে ফিরে আসতে পারে নাই।
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নন্দিত উত্থান ছিল আধিপত্যবাদী শক্তির বিরুদ্ধে কার্যত জনগণের উত্থান ও বিজয়। কিন্তু আমাদের জাতীয় অগ্রযাত্রা অনেকের ভালো লাগেনি। জিয়াউর রহমান পরিণত হন তাদের টার্গেটে।
১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে ঘাতকের বুলেটে তিনি শাহাদাত বরণ করেন। ভারতের বহুল প্রচারিত সাপ্তাহিক সানডে ১৯৮৪ সালে এক চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনে উল্লেখ করে যে “জিয়াউ রহমানের হত্যাকান্ডের ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ জড়িত। মুজিব হত্যার বদলা নেয়ার জন্য ‘র’ জিয়া হত্যার পরিকল্পনা করে। জনতা দলের আরেক একজন এমপি সুব্রাহ্মিনিয়াস স্বামী ওই পত্রিকাকে বলেন, শেখ মজিবরের হত্যাকান্ডের ক্রোধান্বিত হয়ে ‘র’ প্রধান কাজ এবং শংকর নায়ার জিয়া হত্যার পরিকল্পনা গ্রহণ করেন এবং ইন্দিরা গান্ধীর অনুমোদন নিয়ে তা বাস্তবায়নের জন্য এগিয়ে যায়। কিন্তু নির্বাচনে কংগ্রেসের ভরাডুবি হলে শংকর নায়ার নতুন প্রধানমন্ত্রী মোবারজী দেশাইকে বিষয়টি ব্রিফ করেন। দেশাই পরিকল্পনাটি শুনে হতবাক হয়ে যান এবং তা বাতিল করেন।”
১৯৮৪ সালের ২৩-২৯ ডিসেম্বর সংখ্যায় ‘দি ইলাস্ট্রেটেড উইকলী অব ইন্ডিয়া ও একই তথ্য প্রকাশ করে।
আমি তখন চট্টগ্রামে সরকারী চাকরিতে থাকায় ঢাকা এসে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের জানাজায় অংশ নিতে পারি নাই। তাই মনে দুঃখটাও আজো রয়েছে।
শহীদ জিয়া মরেও অমর :
শহীদ জিয়া আজ নেই কিন্তু আদর্শের শিখা আজো অনির্বাণ। মরণ তাকে জাতির কাছে আগে বেশি আপন করেছে। তাঁর হাতে উড্ডীন জাতীয় স্বাধীনতা, রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রের পতাকা আজও সামনে উড়ছে তাঁর যোগ্য উত্তরসূরী দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার পর তারেক রহমানের হাতে। এ পতাকা উড়ছে, উড়বে। এ আদর্শের পতাকার সঙ্গে মিশে আছেন শহীদ জিয়া। কে বলে তিনি নেই। এ পতাকা যতদিন উড়বে উড়বে ততোদিন স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র বিনাশী কোনো চক্রান্তই এদেশে সফল হবে না।
আমার লেখনিতে শহীদ জিয়া :
স্কুল জীবনে আমি প্রবন্ধ লিখতে ভালবাসতাম, দশম শ্রেণীতে থাকা অবস্থায় ‘সন্দ্বীপের উন্নয়ন পরিকল্পনা’ শীর্ষক এক প্রবন্ধ রচনায় চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার থেকে প্রথম পুরস্কার পেয়েছিলাম। কলেজ জীবনে এসে কিছু কিছু কবিতা চর্চার ইচ্ছা হয়েছিল। লিখেছিলাম ওকে কবিতা। পরবর্তী বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে বক্তৃতা প্রতিযোগিতা, আবৃত্তি, গল্প বলা প্রভৃতিতে বেশ উৎসাহ পেয়েছিলাম। ছাত্র জীবন শেষে সরকারি চাকরি, পরবর্তী তৈরি পোশাক শিল্পের সঙ্গে আমার কর্মজীবন শুরু। বিশ্ববিদ্যালয় থাকা শহীদ জিয়ার কর্মকান্ডে কিছুটা সম্পৃক্ত থাকায়, পরবর্তী জীবনে তার প্রতি আমার আগ্রহ বৃদ্ধি পায়। ব্যবসার ফাঁকে ১৯৯০ সাল থেকে জিয়া পরিষদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করি। তখন থেকে জিয়াকে নিয়ে আমার চিন্তা, পড়াশোনা ও গবেষণা।
প্রথমে বিভিন্ন পত্রিকায় নানা বিষয়ে আমার নিবন্ধ বিভিন্ন দৈনিক, সাপ্তাহিক পত্রিকায় প্রকাশিত হতে থাকে। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াকে নিয়ে প্রথম লেখা আমার ১৯৯০ সালে। পরবর্তী শহীদ জিয়া সাধারণ মানুষের মধ্যে তুলে ধরার জন্য আমার অন্যান্য বইয়ের সঙ্গে প্রথম সম্পাদিত বই “দেশনায়ক শহীদ জিয়া”। বইটির ভূমিকা লিখেছিলেন ড. ইয়াজউদ্দিন আহমদ। আমার বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক। ১৯৯১ সালের বাংলাদেশের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ছিলেন। বইটিতে শহীদ জিয়ার নিজস্ব লেখা ছাড়াও আর চল্লিশের অধিক দেশ সেরা লেখকের লেখা প্রকাশিত হয়।
২০০১ সালে নভেম্বরে “একুশ শতকের চ্যালেঞ্জ : শহীদ জিয়া নামে আমার আরও একটি সম্পাদিত বই প্রকাশিত হয়। উক্ত বইটির ভূমিকা লিখেছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাক্তন উপাচার্য, আন্তর্জাতিক রাষ্ট্র বিজ্ঞানী ড. এমাজউদ্দিন আহমদ। বইটি উৎসর্গ করা হয় দেশনেত্রী গণতন্ত্রের মানসকন্যা বেগম খালেদা জিয়াকে। উক্ত বইটিতেও দেশের খ্যাতিমান প্রায় চল্লিশের অধিক লেখকের লেখা স্থান পায়। বইটিতে ভূমিকা অধ্যাপক ড. এমাজউদ্দিন আহমদ লিখেন, “জিয়াউর রহমান কিভাবে ম্যাক্স ওয়েবারের লেখার সাথে পরিচিত হয়েছিলেন জানি না, তবে তিনি ওয়েবারের এই তত্ত্ব যথার্থভাবে প্রয়োগ করতে চেয়েছিলেন বাংলাদেশের উন্নয়নমূলক কর্মের বাস্তবায়নে। তাই তাঁর কণ্ঠে ধ্বনিত হয়েছে “ব্যক্তি কেন্দ্রিক উন্নয়ন প্রক্রিয়া স্থায়িত্ব লাভ করে না। বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠান ভিত্তিক উন্নয়ন প্রয়োজন।” তিনি তাই প্রত্যেককে বলেছেন, “এদেশ আমার, এদেশ আপনার, এদেশ সবার।”
১৯৯৯ সালের অক্টোবরে আমার লেখা বই “বাংলাদেশের উন্নয়নের ইতিহাস, নওয়াব সলিমুল্লাহ থেকে খালেদা জিয়া” প্রকাশিত হয়। উক্ত গ্রন্থটিতে জিয়াউর রহমানের উপর ২৯৭ পৃষ্ঠা থেকে ৩২৬ পৃষ্ঠা পর্যন্ত তাঁর কর্মময় জীবনের বর্ণনা রয়েছে।
২০২৪ সালে এপ্রিলে “সততা ও দেশপ্রেমের উজ্জ্বল নক্ষত্র শহীদ জিয়া গ্রন্থটি প্রকাশিত হয়েছে। উক্ত গ্রন্থের ভূমিকা লিখেছেন বিখ্যাত কবি, গবেষক, লেখক ড. মাহবুব হাসান। মাত্র ৬২ পৃষ্ঠার এই গ্রন্থে শহীদ জিয়ার ১৯ দফা কর্মসূচির পর পরই তারেক রহমান কর্তৃক প্রণীত ৩১ দফা স্থান পেয়েছে।
শহীদ জিয়া ছোটদের জন্য, দেশে অনেক কাজ করে গিয়েছেন। শিশু একাডেমী, শিল্পকলা একাডেমী, নতুন কুড়ি টিভি অনুষ্ঠান, শিশু ও মহিলা বিষয়ক মন্ত্রণালয় স্থাপনসহ অনেক উন্নয়নমূলক কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করেছেন। তাই শিশুদের আরো শহীদ জিয়ার আদর্শ, চরিত্র ও কর্মকান্ড তুলে ধরার জন্য ছোটদের শহীদ জিয়া একটি গ্রন্থ আমি লিখেছি। মাত্র ৪৮ পৃষ্ঠার গ্রন্থে প্রতি পৃষ্ঠা স্থান পেয়েছে জিয়ার ছবি ও সামান্য লেখা। চার রং এর ছাপা বইটি ৫ম শ্রেণি থেকে ১০ম শ্রেণি পর্যন্ত ছাত্রছাত্রীদের জিয়া সম্পর্কে সমকক্ষ ধারণা প্রদান করতে সক্ষম হবে।
এমনিভাবে শহীদ জিয়া বাংলার মানুষের নিকট চিরকাল বেঁচে থাকবেন। তিনি জাতিকে অনুপ্রেরণা দান করবেন। তাঁর প্রণীত কর্মসূচির আলোকে দেশ এগিয়ে যাবে। জাতি উন্নত হবে, সমৃদ্ধ হবে।

আবুল কাসেম হায়দার
সাবেক সহ সভাপতি এফবিসিসিআই, বিটিএমইএ, বিজিএমইএ , বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতি, প্রতিষ্ঠতা চেয়ারম্যান ইস্টার্ন ইউনির্ভাসিটি ও ইসলামিক ফাইন্যান্স এন্ড ইনভেস্টমেন্ট লি:, অষ্ট্রেলিয়ান ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, আবুল কাসেম হায়দার মহিলা কলেজ সন্দ্বীপ, চট্টগ্রাম, সাবেক সিনেট সদস্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
তিনি আজীবন সদস্য : এশিয়াটিক সোসাইটী বাংলাদেশ, বাংলা একাডেমী, চট্টগ্রাম সমিতি, সন্দ্বীপ সমিতি ঢাকা ।
লেখক সাপ্তাহিক প্যানোরামা সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন।




