<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?><rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:wfw="http://wellformedweb.org/CommentAPI/"
	xmlns:dc="http://purl.org/dc/elements/1.1/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>International Archives - চিন্তা ভাবনা</title>
	<atom:link href="https://chintavabna.com/tag/international/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<link>https://chintavabna.com/tag/international/</link>
	<description>দেশ ও মানুষের  জন্য  নিবেদিত</description>
	<lastBuildDate>Fri, 08 Sep 2023 16:45:19 +0000</lastBuildDate>
	<language>en-US</language>
	<sy:updatePeriod>
	hourly	</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>
	1	</sy:updateFrequency>
	<generator>https://wordpress.org/?v=7.1.2</generator>

<image>
	<url>https://chintavabna.com/wp-content/uploads/2023/09/cropped-cropped-cropped-cropped-chintavabna_logo-3-70x70.png</url>
	<title>International Archives - চিন্তা ভাবনা</title>
	<link>https://chintavabna.com/tag/international/</link>
	<width>32</width>
	<height>32</height>
</image> 
	<item>
		<title>চীনের প্রেসিডেন্ট : সি চিন পিং সবচেয়ে প্রভাবশালী নেতা</title>
		<link>https://chintavabna.com/xi-jinping-most-influential-leader/</link>
					<comments>https://chintavabna.com/xi-jinping-most-influential-leader/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[আবুল কাসেম হায়দার]]></dc:creator>
		<pubDate>Fri, 07 Apr 2023 13:10:34 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[বিবিধ]]></category>
		<category><![CDATA[ব্যবসা বাণিজ্য]]></category>
		<category><![CDATA[China]]></category>
		<category><![CDATA[China Bangladesh Friendship]]></category>
		<category><![CDATA[International]]></category>
		<category><![CDATA[আন্তর্জাতিক]]></category>
		<category><![CDATA[বিশ্ব]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://chintavabna.com/?p=843</guid>

					<description><![CDATA[<p>চীনের প্রেসিডেন্ট হলেন সি চিন পিং। এইটি তার তৃতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ চীন। চীনের প্রেসিডেন্ট হিসেবে তৃতীয় মেয়াদ নিশ্চিত করে&#8230; </p>
<p>The post <a href="https://chintavabna.com/xi-jinping-most-influential-leader/">চীনের প্রেসিডেন্ট : সি চিন পিং সবচেয়ে প্রভাবশালী নেতা</a> appeared first on <a href="https://chintavabna.com">চিন্তা ভাবনা</a>.</p>
]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[
<p class="has-medium-font-size wp-block-paragraph">চীনের প্রেসিডেন্ট হলেন সি চিন পিং। এইটি তার তৃতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ চীন। চীনের প্রেসিডেন্ট হিসেবে তৃতীয় মেয়াদ নিশ্চিত করে নতুন নজির গড়েছেন সি চিন পিং। গত ১০ মার্চ ,২০২৩ শুক্রবার পার্লামেন্ট অধিবেশনে আরও এক মেয়াদের জন্য তিনি দেশটির প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন। এর মধ্যে দিয়ে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশটিতে নিজের নিয়ন্ত্রণ আরও পোক্ত করলেন সি। এমন সময় তৃতীয় মেয়াদে তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করছেন। যখন করোনাভাইরাস মহামারির কারণে সৃষ্ট মন্দা থেকে চীন ঘুরে দাঁড়াচ্ছে এবং দেশটির ওপর ক‚টনৈতিক চ্যালেঞ্জ বাড়ছে। চীনের পার্লামেন্ট ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের (এনপিসি) সদস্য প্রায় তিন হাজার। গ্রেট হলে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে সদস্যরা সর্বসম্মতভাবে ৬৯ বছর বয়সী এই নেতাকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত করেছেন। এই নির্বাচনে আর কোনো প্রার্থী ছিল না।</p>



<p class="has-medium-font-size wp-block-paragraph">এক দশক আগে ক্ষমতায় আসেন সি। এরপর থেকে তিনি চীনকে আরও কর্তৃত্ববাদী ব্যবস্থার দিকে নিয়ে যান বলে অভিযোগ রয়েছে। সি আরও পাঁচ বছরের জন্য নিজের ক্ষমতার মেয়াদ বাড়িয়ে নিলেন। এমন সময় তিনি তৃতীয় মেয়াদে দায়িত্ব গ্রহণ করছেন, যখন তাইওয়ান ইস্যু, ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়াকে সমর্থন দেওয়া, বাণিজ্য ও মানবাধিকার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের সঙ্গে চীনের বৈরিতা ক্রমে বাড়ছে।<br>অভ্যন্তরীণভাবেও নানা চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে চীন। এর মধ্যে রয়েছে সির ‘শূন্য কোভিড-নীতি’ থেকে ঘুরে দাঁড়ানো, ভোক্তা ও ব্যবসায়ীদের ভঙ্গুর আস্থা এবং চীনের রপ্তানি পণ্যের দুর্বল চাহিদা। গত বছর চীনের প্রবৃদ্ধি ছিল মাত্র ৩ শতাংশ যা কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে কম। পার্লামেন্ট অধিবেশন চলাকালে চলতি বছরের প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা মাত্র ৫ শতাংশ নির্ধারণ করেছে সরকার।<br>যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক চিন্তক প্রতিষ্ঠান জেমসটাউন ফাউন্ডেশনের সিনিয়র ফেলো উইলি লাম বলেছেন, তৃতীয় মেয়াদে সি-কে অর্থনৈতিকে পুনরুজ্জীবিত করার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। কিন্তু তিনি যদি যা করছেন, সেটিই অব্যাহত রাখেন, যেমন বেসরকারি খাতের ওপর দল ও রাষ্ট্রের কঠোর নিয়ন্ত্রণ ও পশ্চিমাদের সঙ্গে সংঘাত, তাহলে তাঁর সফলতার সম্ভাবনা আশাব্যঞ্জক হবে না।’<br>সি তৃতীয় মেয়াদে নিশ্চিত করার পর প্রথম বিদেশি নেতা হিসেবে তাঁকে অভিনন্দন জানিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। রাশিয়া গত বছর ইউক্রেনে হামলা চালানোর কয়েক দিন আগে এ দুই নেতা চীন ও রাশিয়ার মধ্যে ‘সীমাহীন অংশীদারত্বের’ ঘোষণা দিয়েছিলেন।<br>২০১৮ সালে মেয়াদের সীমা তুলে দেওয়ার মাধ্যম সি আরেক মেয়াদে দায়িত্ব গ্রহণের ক্ষেত্র প্রস্তুত করে রেখেছিলেন। তৃতীয় মেয়াদে দায়িত্ব গ্রহণের মাধ্যমে চীন প্রজাতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা মাও সে-তুংয়ের পর সবচেয়ে প্রভাবশালী নেতায় পরিণত হলেন তিনি।<br>অবশ্য প্রেসিডেন্টের পদটি মূলত আনুষ্ঠানিক। গত বছরের অক্টোবরে আরও পাঁচ বছরের জন্য কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক পুননির্বাচিত হয়ে সি তাঁর ক্ষমতার মূল অবস্থান পোক্ত করেছিলেন।</p>



<p class="has-medium-font-size wp-block-paragraph"><strong>নতুন নেতৃত্ব</strong><br>১০ই মার্চ ২৩ পার্লামেন্টে ভোটাভুটির সময় সম্ভাব্য নতুন প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের সঙ্গে সি-কে কথা বলতে দেখা যায়। শনিবার চীনের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদটিতে তাঁর নিয়োগ নিশ্চিত ১১ই মার্চ ২৩ হয়। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে অর্থনীতির বিষয়টি দেখভালের দায়িত্বে থাকবেন সাংহাইয়ের এই দলীয় প্রধান ও সির মিত্র।<br>এছাড়া উপপ্রধানমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর, অন্যান্য মন্ত্রী ও বিভিন্ন বিভাগের প্রধানসহ সির অনুমোদন দেয়া কর্মকর্তাদের সরকারি পদের জন্য নির্বাচিত কিংবা নিয়োগ দেয়া হয়।</p>



<p class="has-medium-font-size wp-block-paragraph"><strong>সির সামনে চার চ্যালেঞ্জ</strong><br>চীনের প্রেসিডেন্ট হিসেবে ঐতিহাসিক তৃতীয় মেয়াদ নিশ্চিত করেছেন সি চিন পিং। নতুন মেয়াদে তাঁর সামনে চারটি চ্যালেঞ্জ রয়েছে বলে মনে করছে বার্তা সংস্থা এএফপি। যদিও এসব বিষয়ে প্রত্যাশিত অগ্রগতি হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ।</p>



<p class="has-medium-font-size wp-block-paragraph"><strong>মন্থর অর্থনীতি</strong><br>সির আগামী পাঁচ বছর মেয়াদে চীনের মন্থর অর্থনীতিই সম্ভবত প্রাধান্য পাবে। অবশ্য কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃত্বে নিজের অনুগতদের জড়ো করার সিদ্ধান্তের ফলে প্রবৃদ্ধির চেয়ে তিনি নিজের মতাদর্শকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন কি না, সংশয় সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশটিতে গত বছর প্রবৃদ্ধি ছিল মাত্র ৩ শতাংশ। চলতি বছরের প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৫ শতাংশ নির্ধারণ করেছে সরকার যা কয়েক দশকের কম লক্ষ্যমাত্রাগুলোর একটি।</p>



<p class="has-medium-font-size wp-block-paragraph"><strong>যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনা</strong><br>সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেইজিং ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সম্পর্কের ক্রমশ অবনতি হচ্ছে। উভয় পক্ষ বাণিজ্য, মানবাধিকার ও কোভিডের উৎপত্তিসহ বেশ কয়েকটি বিষয় নিয়ে বিরোধে জড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের আকাশসীমায় চীনের বেলুন ভ‚পাতিত করা নিয়ে গত মাসে পূর্বঘোষিত বেইজিং সফর স্থগিত করেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি রিঙ্কেন।</p>



<p class="has-medium-font-size wp-block-paragraph"><strong>তাইওয়ান হুমকি</strong><br>তাইওয়ানের সঙ্গে সম্প্রতি চীনের উত্তেজনা ব্যাপক বেড়েছে। এখন একজন ‘সাহসী’ সি সিদ্ধান্ত নিতে পারেন, স্বশাসিত গণতান্ত্রিক দ্বীপটি দখলে বেইজিংয়ের দীর্ঘদিনের উচ্চাকাঙ্ক্ষা পূরণের সঠিক সময় কোনটি। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তাইওয়ানের প্রতি চীনের সামরিক শক্তি প্রদর্শন প্রকট হয়ে উঠেছে।</p>



<p class="has-medium-font-size wp-block-paragraph"><strong>মানবাধিকার</strong><br>সির অধীনে চীন থেকে নাগরিক সমাজ প্রায় মুছে গেছে বলা চলে। অনেক অ্যাকটিভিস্ট দেশ ছেড়েছেন। কোথাও সরকারের বিরোধিতা বলতে কিছু নেই। পশ্চিমাঞ্চলীয় জিনজিয়াংয়ে ১০ লাখ উইঘুরসহ অন্যান্য মুসলিম সংখ্যালঘুরা বন্দিশিবিরে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রসহ কিছু পশ্চিমা দেশের আইনপ্রণেতারা এ নিপীড়নকে গণহত্যার সঙ্গে তুলনা করেছেন।</p>



<p class="has-medium-font-size wp-block-paragraph"><strong>লি কিয়াং চীনের নতুন প্রধানমন্ত্রী:</strong><br>চীনা প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের অত্যন্ত আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত লি কিয়াং চীনের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে নিয়োগ পেয়েছেন। দেশটির পার্লামেন্ট লি কিয়াং অধিবেশনে ভোটাভুটির পর তাঁর নিয়োগ চ‚ড়ান্ত করা হয়। বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী লি কেছিয়াংয়ের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন তিনি।<br>চীনের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে লি কিয়াংকে নিয়োগ দেওয়ার প্রস্তাব ছিল সি চিন পিংয়ের। পার্লামেন্ট অধিবেশনে সে প্রস্তাবটি পড়ে শোনানো হয়। তাঁর নিয়োগ চ‚ড়ান্ত করতে ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের (পার্লামেন্ট) ২ হাজার ৯০০-এর বেশি প্রতিনিধির মধ্যে ভোট হয়। ৬৩ বছর বয়সী এ নেতা প্রায় সবারই সমর্থন পেয়েছেন।<br>পার্লামেন্টে স্থাপিত একটি ইলেকট্রনিক স্ক্রিনে দেখা গেছে, লি ২ হাজার ৯৩৬ ভোট পেয়েছেন। মাত্র তিনজন প্রতিনিধি তাঁর নিয়োগের বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন। আটজন ভোটদানে বিরত ছিলেন। ভোট চলার সময় ভেতরে সাংবাদিকদের প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।<br>পরে চীনের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন লি কিয়াং। চীনের সংবিধানের প্রতি অনুগত থাকার অঙ্গীকার করেন তিনি। সেচপাম্প স্টেশনের শ্রমিক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেছিলেন লি কিয়াং। এরপর ধীরে ধীরে স্থানীয় সরকার পর্যায়ের বিভিন্ন পদে আসীন হন। একসময় সাংহাই শহরে কমিউনিস্ট পার্টিকে নেতৃত্ব দিয়েছেন লি কিয়াং।</p>



<p class="has-medium-font-size wp-block-paragraph"><strong>শি চিনফিং:</strong><br>শি চিনফিং গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের রাষ্ট্রপতি। অধিকন্তু তিনি একাধারে চীনের রাষ্ট্রীয় কেন্দ্রীয় সামরিক পরিষদের প্রধান, চীনের সাম্যবাদী দলের মহাসচিব এবং সাম্যবাদী দলের কেন্দ্রীয় সামরিক পরিষদের চেয়ারম্যান।<br>শি চিনফিং দীর্ঘকাল যাবত সক্রিয় ও চীনের সাম্যবাদী দলের প্রয়াত নেতা শি চুংশুনের সন্তান। চিনফিং তার জন্মস্থান ফুচিয়েন প্রদেশে রাজনৈতিক জীবনের সূচনা করেন। পরে তিনি পার্শ্ববর্তী চচিয়াং প্রদেশের দলীয় প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। চিনফিং দলের কেন্দ্রীয় পর্যায়ের রাজনীতিতে আসেন পরে সাংহাইয়ের দলীয় প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের মাধ্যমে।<br>শি চিনফিং দুর্নীতির বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান এবং রাজনৈতিক ও বাজার অর্থনীতির সংস্কার প্রসঙ্গে উদার নীতির জন্য খ্যাত। বর্তমান দায়িত্বসমূহ ও বিশেষ নীতির কারণে তাকে চীনের সাম্যবাদী দলের মহাসচিব মনোনীত করা হয়।</p>



<p class="has-medium-font-size wp-block-paragraph"><strong>প্রাথমিক জীবন</strong><br>শি চিনফিং ১৫ জুন ১৯৫৩ তারিখে বেইজিংয়ে জন্মগ্রহণ করেন। তার পৈতৃক নিবাস হনান প্রদেশের তেংচু জেলার শিয়িং শহরে। তিনি উত্তর চীনের শানসি প্রদেশে কমিউনিস্ট গেরিলা আন্দোলনের অন্যতম নেতা, পরবর্তীতে চীনের উপ-প্রধানমন্ত্রী শি জোংশুনের দ্বিতীয় সন্তান। চিনফিংয়ের জন্মগ্রহণের সময়ে জোংশুন কমিউনিস্ট পার্টির প্রপাগান্ডা বিভাগের প্রধান ছিলেন এবং পরে ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। চিনফিংয়ের ১০ বছর বয়সে তার বাবা কমিউনিস্ট পার্টির শীর্ষ পর্যায়ে রাজনৈতিক কোন্দলের শিকার হন এবং প্রতিহিংসাবশত বদলির ফলে হেনান প্রদেশের লুইয়াং শহরের একটি কারখানায় নিযুক্ত হন। ১৯৬৮ সালের সাংস্কৃতিক বিপ্লবের ফলে জোংশুন আবারও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হন ও এবার গ্রেপ্তার হন, যখন চিনফিংয়ের বয়স ১৫। এসময়ে বাবার ছত্রচ্ছায়ার বাইরে আসতে বাধ্য চিনফিং মাও সেতুং-এর ডাউন টু দ্য কান্ট্রিসাইড (গ্রামের উদ্দেশ্যে যাত্রা) কর্মসূচীতে অংশ নেন ও ১৯৬৯ সালে শানসি প্রদেশের ইয়ানানে ইয়াঞ্চুয়ান শহরে বসবাস করতে যান। তিনি সেখানে কমিউনিস্ট পার্টির উৎপাদন বিষয়ক উপদলের প্রধান নিযুক্ত হন। ১৯৭৫ সালে তিনি যখন এই কর্মসূচি থেকে বেরিয়ে আসেন তখন তার বয়স মাত্র ২২ বছর। কর্মসূচিটিতে যোগ দেয়ার অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে চিনফিং এক সাক্ষাৎকারে বলেন- এটি একটি আবেগময় অভিজ্ঞতা ছিল। অংশ নেয়ার সময়ে আমাদের অন্যরকম এক মনোভাব ছিল। পরে যখন সাংস্কৃতিক বিপ্লবকে আর বাস্তবায়ন করা গেল না, তখন আমরা বুঝলাম আমরা আসলে একটা ঘোরের মাঝে ছিলাম।<br>চিনফিং ১৯৭৫ সালে রসায়ন প্রকৌশল অধ্যয়নের জন্য চীনের বিখ্যাত কিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন এবং ১৯৭৯ সালে উত্তীর্ণ হন। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বেরুবার পর তিনি তার বাবার রাজনৈতিক অনুসারী, তৎকালীন উপ-প্রধানমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় সামরিক পরিষদের মহাসচিব জেঙ্গ বিয়াওর সহকারী হিসেবে কাজ শুরু করেন। তিনি ১৯৮২ সাল পর্যন্ত এই দায়িত্বে বহাল ছিলেন। শি চিনফিং ১৯৮৫ সালে মার্কিন কৃষিব্যবস্থা বিষয়ে গবেষণারত একটি চীনা প্রতিনিধি দলের অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের আইওয়া অঙ্গরাজ্যের মুস্কাটিন শহর ভ্রমণ করেন।</p>



<p class="has-medium-font-size wp-block-paragraph"><strong>উত্থান</strong><br>চিনফিং ১৯৭১ সালে কমিউনিস্ট ইয়ূথ লীগে যোগদান করেন এবং ১৯৭৫ সালে সেখান থেকে কমিউনিস্ট পার্টি অফ চায়নায় যোগ দেন। ১৯৮২ সালে দলের একজন সম্পাদক হিসেবে তাকে হাবেই প্রদেশের চেঙ্গডিং জেলায় পাঠানো হয়েছিল। রাজনৈতিক জীবনে চিনফিং চারটি প্রদেশে কমিউনিস্ট পার্টির নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন- শানশি, হুপেই, ফুচিয়েন ও চচিয়াং।<br>চিনফিং ফুচিয়েন প্রদেশের ফুৎসু পৌর শহর কমিউনিস্ট পার্টির একাধিক পদে বহাল ছিলেন ও ১৯৯০ সালে ফুৎসু দলীয় বিদ্যালয়ের সভাপতি হন। ১৯৯৯ সালে তিনি ফুচিয়েন প্রদেশের ডেপুটি গভর্নর নিযুক্ত হন, এবং পরের বছর গভর্নর ঘোষিত হন। ফুচিয়েনের গভর্নর থাকাকালীন চিনফিং মুক্ত বাজার অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার উদ্যোগ নেন এবং বিনিয়োগের জন্য তাইওয়ানের উদ্যোক্তাদেরকে আমন্ত্রণ করেন।<br>২০০০ সালের ফেব্রুয়ারীতে গভর্নর চিনফিং ও প্রদেশের দলীয় সম্পাদক চেন মিঙ্গয়ি বহুল আলোচিত ইয়ানহুয়া কেলেংকারি প্রসঙ্গে ব্যাখ্যা দিতে কমিউনিস্ট পার্টির শীর্ষ চার নেতা- তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ও মহাসচিব জিয়াং জেমিন, প্রধানমন্ত্রী চু জুংচি, উপ-রাষ্ট্রপতি হু জিনতাও এবং প্রধান শৃঙ্খলা পরিদর্শক ওয়েই জিয়ানসিঙ্গের দ্বারা গঠিত একটি বোর্ডের সামনে উপস্থিত হন।<br>২০০২ সালে চিনফিং চচিয়াং প্রদেশের শীর্ষ একাধিক রাজনৈতিক ও সরকারি পদে নিযুক্ত হন। এ বছরই ভারপ্রাপ্ত গভর্নর থাকা অবস্থায় তিনি অর্থনৈতিকভাবে সফল এই উপকূলীয় প্রদেশটির কমিউনিস্ট পার্টির প্রধান নিযুক্ত হন।<br>শি চিনফিং ১৫তম সিপিসি কেন্দ্রীয় কমিটির একজন বিকল্প সদস্য হিসেবে নিযুক্ত হন। তিনি ১৬তম সিপিসি কেন্দ্রীয় কমিটিরও একজন সদস্য ছিলেন এবং এর মধ্য দিয়ে চীনের কেন্দ্রীয় রাজনৈতিক নেতৃত্বে তার প্রবেশ ঘটে।<br>চচিয়াং প্রদেশ, যেটি অর্থনৈতিকভাবে অত্যন্ত সফল ও অধুনা চীনের অর্থনৈতিক সাফল্যের কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত হয়, সেখানকার শীর্ষ রাজনীতিবিদ হিসেবে চিনফিং সেখানে স্বাস্থ্যকর অর্থনৈতিক পরিবেশ বজায় রাখার জন্য খ্যাতি অর্জন করেন। তার দায়িত্বপালনকালে প্রাদেশিক অর্থনীতিতে ১৪ শতাংশেরও বেশি হারে প্রবৃদ্ধি হয়েছিল। চচিয়াংয়ে দায়িত্ব পালনকালে চিনফিং দুর্নীতিবিরোধী কঠোর ও অকপট নেতা হিসেবে একই সাথে জাতীয় গণমাধ্যম ও কমিউনিস্ট পার্টির শীর্ষ নেতৃত্বের মনযোগে আসেন।<br>২০০৬ সালে একটি অর্থ কেলেংকারির সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে সাংহাই কমিউনিস্ট পার্টি প্রধান চেন লিয়াঙ্গয়ুকে বহিষ্কার করা হলে তার জায়গায় পরের বছর চিনফিংকে সেখানে পাঠানো হয়। সাংহাইর দলীয় প্রধান, যেটি চীনের রাজনৈতিক কাঠামোতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদ হিসেবে বিবেচিত হয়, এখানে শি চিনফিংয়ের নিয়োগের ফলে তার উপর কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় শীর্ষ পর্যায়ের আস্থার বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠে। সাংহাইতে দায়িত্ব পালনকালে চিনফিং সকল বিতর্ক এড়িয়ে সতর্কভাবে দায়িত্ব পালন করেন। চিনফিংয়ের রাজনৈতিক জীবনের একটি প্রধান বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, এত গুরুত্বপূর্ণ সব দায়িত্ব পালন করা অবস্থায় তিনি কখনও কোন রাজনৈতিক বিতর্ক, কেলেঙ্কারি ও কোন্দলের মুখে পড়েননি।</p>



<p class="has-medium-font-size wp-block-paragraph"><strong>কার্যকরী কমিটিতে যোগদান ও উপ-রাষ্ট্রপতিত্ব</strong><br>উপ-রাষ্ট্রপতি হিসেবে চিনফিংয়ের প্রথম যুক্তরাষ্ট্র সফরে আগস্ট ২০০৮-এ সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডবিøউ বুশের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ<br>সেপ্টেম্বর ২০১০-এ রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভিয়েদিয়েভের সাথে চিনফিংয়ের সাক্ষাৎ।<br>সাংহাই কমিউনিস্ট পার্টির সম্পাদক পদে নিয়োগের মধ্য দিয়েই এটি স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল যে শি চিনফিং চীনের পঞ্চম প্রজন্মের নেতৃত্বের অংশ হতে যাচ্ছেন। ২০০৭ সালের অক্টোবরে সিপিসির ১৭তম কংগ্রেসে ৯-সদস্য বিশিষ্ট পলিটব্যুরো কার্যকরী কমিটিতে তার অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে এটি আরও স্পষ্ট হয়ে উঠে। চিনফিং পলিটব্যুরোতে লি কেকিয়াঙ্গের উপরে স্থান লাভ করেন এবং এর মধ্য দিয়ে এটা অনেকটা নিশ্চিত হয়ে যায়- শি চিনফিংই হতে যাচ্ছেন চীনের পরবর্তী প্যারামাউন্ট লিডার বা ‘একচ্ছত্র নেতা’। একই সময়ে চিনফিং কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় সচিবালয়ের প্রধান নিযুক্ত হন। ২০০৮ সালের মার্চে সিপিসির ১১তম জাতীয় গণসম্মেলনে চিনফিং গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের উপ-রাষ্ট্রপতি ঘোষিত হলে ‘একচ্ছত্র নেতা’ হওয়ার ক্ষেত্রে তার সম্ভাবনা আরও জোরদার হয়। ধারণা করা হয়ে থাকে, চিনফিংয়ের উজ্জ্বল সম্ভাবনার একটি অন্যতম কারণ হচ্ছে তার সাথে বর্তমান রাষ্ট্রপতি হু জিনতাও ও উপ-রাষ্ট্রপতি হিসেবে তার পূর্বসূরী জেং কিংহঙ্গের, অর্থাৎ চীনা রাজনীতির বহুমুখী নেতৃত্বের সুসম্পর্ক।<br>কমিউনিস্ট পার্টির শীর্ষ পর্যায়ে আসীন হওয়ার পর থেকে চিনফিং একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল হয়েছেন বা দায়িত্ব লাভ করেছেন। তিনি ২০০৮ গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিকের আয়োজক দলের নেতৃত্ব দেন। একই সাথে তিনি হংকং ও ম্যাকাও বিষয়ক দপ্তরেরও দায়িত্বে ছিলেন। তাকে কেন্দ্রীয় দলীয় বিদ্যালয়, যেখান থেকে সিপিসির আদর্শগত শিক্ষা দেয়া হয় এবং ক্যাডাররা প্রশিক্ষণ লাভ করে, এই প্রতিষ্ঠানটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। ২০০৮ সালে সিচুয়ান ভূমিকম্পের পর তিনি উচ্চপদস্থ সরকারি এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে শাংসি ও গানসু প্রদেশ পরিদর্শন করেন। উপ-রাষ্ট্রপতি হিসেবে চিনফিং তার প্রথম বিদেশ সফর হিসেবে ২০০৮ সালের মে মাসে মাত্র ৮ দিনের মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়া, মঙ্গোলিয়া, সউদি আরব, কাতার ও ইয়েমেন ভ্রমণ করেন। গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিক শেষ হওয়ার পর চিনফিংয়ের উপর গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের ৬০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনের মহোৎসব আয়োজনের দায়িত্ব দেওয়া হয়।<br>এছাড়াও অনানুষ্ঠানিকভাবে প্রচারিত আছে, শি চিনফিং ৬৫২১ প্রজেক্ট নামে সিপিসির সর্বোচ্চ পর্যায়ের একটি গোপন কমিটির প্রধান ছিলেন, যে কমিটির দায়িত্ব ছিল গুরুত্বপূর্ণ চারটি দিবস (গণপ্রজাতন্ত্রের ৬০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী, তিব্বত বিদ্রোহের ৫০তম বার্ষিকী, তিয়ানামেন স্কয়ার আন্দোলনের ২০তম বার্ষিকী ও ফালুন গং দমনের ১০ম বার্ষিকী- অনানুষ্ঠানিক প্রজেক্টটি নামকরণ হয়েছে বার্ষিকীগুলোর আদি সংখ্যা থেকে) উপলক্ষে সরকারবিরোধীদের বিরুদ্ধে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা।<br>চীনের শুরুর দিককার প্রসিদ্ধ ও অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদদের সন্তানদের যারা রাজনীতিতে এসেছেন, তাদের মধ্যে শি চিনফিংকে সবচেয়ে সার্থক হিসেবে বিবেচনা করা হয়।<br>বিদেশী রাষ্ট্রগুলোর চীনবিষয়ক নীতিনির্ধারক ও প্রতিনিধিদের মধ্যে শি চিনফিংয়ের জনপ্রিয়তা রয়েছে। সিঙ্গাপুরের সাবেক প্রধানমন্ত্রী লী কুয়ান ইউ চিনফিং সম্পর্কে বলেন, “তিনি একজন চিন্তাশীল মানুষ যিনি রাজনৈতিক জীবনে বহু পরীক্ষা ও পর্যায় পার হয়ে এই অবস্থানে এসেছেন”। ইউ আরও বলেন, “আমি তার রাজনৈতিক সত্তাকে নেলসন ম্যান্ডেলার সাথে এদিক থেকে তুলনা করি, যে তিনি আবেগের দিক থেকে একজন স্থিতিশীল মানুষ যিনি নিজের বিচার বিবেচনাকে ব্যক্তিগত ভোগান্তি বা দুর্ভোগের দ্বারা প্রভাবিত হতে দেন না। এক বাক্যে শি চিনফিং একজন সন্তোষজনক মানুষ।”<br>যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক অর্থ মন্ত্রী (সেক্রেটারি অফ ট্রেজারি) হেনরি পলসন চিনফিংকে এভাবে বর্ণনা করেন, “এমন একজন মানুষ যিনি জানেন কীভাবে লক্ষ্যে পৌঁছতে হয়”।</p>



<p class="has-medium-font-size wp-block-paragraph"><strong>উপ-রাষ্ট্রপতি হিসেবে বিদেশ সফর</strong><br>২০০৯ সালে যখন বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সঙ্কট তুঙ্গে, তখন বিশ্বের অন্যতম অর্থনৈতিক শক্তি চীনের উপ-রাষ্ট্রপতি হিসেবে শি চিনফিং ফেব্রুয়ারী দক্ষিণ আমেরিকা সফর করেন। তিনি চীনের কূটনৈতিক তৎপরতাকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে একাধারে মেক্সিকো, জ্যামাইকা, কলম্বিয়া, ভেনিজুয়েলা ও ব্রাজিল সফর করেন। ভেনিজুয়েলা সফরে তার সাথে হুগো চাভেজের বৈঠক হয়।<br>১১ ফেব্রুয়ারী তারিখে মেক্সিকো সফরকালে চিনফিং অর্থনৈতিক সঙ্কট নিরসনে চীনের ভ‚মিকা তুলে ধরতে গিয়ে বলেন, “অর্থনৈতিক সঙ্কট নিরসনে চীনের ভূমিকা ছিল সমগ্র মানবজাতির প্রতি এর অবদানগুলোর মাঝে অন্যতম, যার ফলে বিশ্বব্যাপী ১৩০ কোটি মানুষের ক্ষুধা নিবারণ সম্ভব হয়েছে”।<br>চীনের বৈদেশিক ও অর্থনৈতিক নীতিমালায় বৈদেশিক হস্তক্ষেপের নিন্দা, যেটি সাধারণত চীনের রাজনীতিতে একটি স্পর্শকাতর বিষয়, এ প্রসঙ্গে চিনফিং সরাসরি মন্তব্য করে বলেন, “কিছু নিষ্কর্মা বিদেশী আছে, যাদের পেট সব সময়ে ভরা থাকে, তারা আর কোন কাজ না পেয়ে শুধু চীনের উপর দায় চাপিয়ে দেয়। এক্ষেত্রে বক্তব্য হচ্ছে- প্রথমত, চীন বিশ্বে বিপ্লব রপ্তানি করছে না; দ্বিতীয়ত, চীন বিশ্বে ক্ষুধা আর দারিদ্র্যও রপ্তানি করছে না; তৃতীয়ত, তোমাদের মাথাব্যথার কারণ সৃষ্টি করার কোন উদ্দেশ্যও চীনের নেই। এরপর আমরা আর কী বলতে পারি?”<br>তাৎক্ষণিকভাবে এই বক্তব্যটি শুধু স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রচারিত হলেও পরে একে কেন্দ্র করে চীনের ইন্টারনেট মহলে আলোচনার ঝড় উঠে।<br>দক্ষিণ আমেরিকা ও মধ্যপ্রাচ্য ছাড়াও শি চিনফিং আরও কিছু দেশ সফর করেছেন। রাজনৈতিক ধারাভাষ্যকাররা মন্তব্য করেন, এগুলো মূলত চীনের আগামী ‘একচ্ছত্র নেতা’ হিসেবে শি চিনফিংয়ের ক‚টনৈতিক অবস্থান শক্তিশালী করার প্রচেষ্টার অংশ।<br>২০০৯ সালের অক্টোবরে পাঁচদিনের আন্তর্জাতিক সফরে চিনফিং বেলজিয়াম, জার্মানি, বুলগেরিয়া, হাঙ্গেরি ও রোমানিয়া সফর করেন। ঐ বছরেরই ডিসেম্বরে এক সপ্তাহ সময়ের মধ্যে তিনি জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, কম্বোডিয়া ও মায়ানমার সফর করেন।<br>২০১২ সালের ফেব্রুয়ারীতে চিনফিং যুক্তরাষ্ট্র, আয়ারল্যান্ড ও তুরস্ক সফর করেন। যুক্তরাষ্ট্র সফরের সময়ে তিনি হোয়াইট হাউজে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সাথে বৈঠিক করেন। জো বাইডেনের ২০১১ সালের চীন সফরের সূত্রে তার সাথে চিনফিংয়ের পূর্ব ঘনিষ্ঠতা ছিল। চিনফিং যুক্তরাষ্ট্র সফরের সময় ক্যালিফোর্নিয়া যান। তিনি আইওয়া রাজ্যের মুস্কাটিন শহরেও যান, যেখানে তিনি ১৯৮৫ সালে একটি কৃষি পরিদর্শন দলের সদস্য হিসেবে এসেছিলেন। তিনি তার তখনকার আতিথ্যদানকারী পরিবারগুলোর সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।</p>



<p class="has-medium-font-size wp-block-paragraph"><strong>রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ</strong><br>শি চিনফিং ২০০৯ ও ২০১১ সালে টাইম ম্যাগাজিন ঘোষিত বিশ্বের ১০০ জন সবচেয়ে ক্ষমতাবান মানুষের তালিকায় ছিলেন। ২০১০ সালে তিনি ব্রিটিশ ম্যাগাজিন নিউ স্টেটসম্যান ঘোষিত ৫০ জন সবচেয়ে ক্ষমতাবান মানুষের তালিকায় চতুর্থ স্থানে ছিলেন।<br>আশা করা হয়েছিল ২০০৯ সালের সেপ্টেম্বরে সিপিসির কেন্দ্রীয় কমিটির নেতৃত্ব পরিবর্তনে শি চিনফিং সামরিক পরিষদে গুরুত্বপূর্ণ পদ লাভ করবেন। কিন্তু তার বদলে অপর এক নেতাকে কেন্দ্রীয় সামরিক পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ঘোষণা করা হলে চিনফিংয়ের রাজনৈতিক ভবিষ্যত নিয়ে কেউ কেউ সংশয় প্রকাশ করেন। চীন বিষয়ক রাজনৈতিক বিশ্লেষক চেং লি মন্তব্য করেন, সামরিক পরিষদে চিনফিংয়ের এই স্থান না পাওয়া প্রমাণ দেয় যে সিপিসির শীর্ষ নেতারা তাদের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নির্ধারণে আরও বেশি চুলচেরা বিশ্লেষণ চালাচ্ছে। অবশ্য ইতোমধ্যেই চিনফিং সংশয়ের ঊর্ধে আশাবাদের চেয়েও বেশি ক্ষমতাধর একাধিক পদে আসীন ছিলেন। এছাড়াও ২০১০ সালের অক্টোবরে চিনফিংকে সিপিসির ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়, ১৯৯৯ সালে যে পদটিতে আসীন ছিলেন বর্তমান রাষ্ট্রপতি হু জিনতাও।<br>২০১০ সালের শেষ নাগাদ এটা মোটামুটি নিশ্চিত হয়ে যায় যে শি চিনফিং ২০১২ ও ২০১৩ সালে যথাক্রমে সিপিসির মহাসচিব ও গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের রাষ্ট্রপতি হিসেবে হু জিনতাওর স্থলাভিষিক্ত হতে যাচ্ছেন।</p>



<p class="has-medium-font-size wp-block-paragraph"><strong>ব্যক্তিগত জীবন</strong><br>শি ১৯৮০ সালে কে লিংলিংকে বিয়ে করেন। তিন বছর পর তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে। ১৯৮৭ সালে চিনফিং বিখ্যাত লোকগায়িকা পেং লিউয়ানকে বিয়ে করেন। উল্লেখ্য বিয়ের সময় পেং লিউয়ান চীনে তার স্বামী শি চিনফিংয়ের চেয়ে অনেক বেশি বিখ্যাত ও পরিচিত মুখ ছিলেন। স্বামী ও স্ত্রীর ভিন্নধারার জীবনের জন্য দীর্ঘ সময়ে তাদেরকে আলাদা থাকতে হয়। শি মিংসে নামে তাদের একটি কন্যা আছে। মিংসে ২০১০ সালের সেপ্টেম্বরে হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটিতে স্নাতক পর্যায়ে পড়াশুনা শুরু করেন।<br>শি চিনফিং রসায়ন প্রকৌশল ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিষয়ে ডক্টরেট ডিগ্রি লাভ করেছেন।<br>স্ত্রী পেং লিউয়ান চিনফিংকে একজন কঠোর পরিশ্রমী, পরিমিত ও সাধাসিধে মানুষ হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, “তিনি যতক্ষণ বাড়িতে থাকেন, তখন তার উপস্থিতি কখনওই জানান দেয় না যে একজন এত বড় মাপের রাজনৈতিক নেতা বাড়িতে অবস্থান করছেন। আমার কাছে তিনি শুধুই আমার স্বামী”।<br>শি চিনফিংয়ের সাথে ব্যক্তিগত পর্যায়ে পরিচয় আছে, এমন ব্যক্তিদের উদ্ধ্বৃত করে ২০১১ সালে ওয়াশিংটন পোস্ট একটি নিবন্ধ প্রকাশ করে, যাতে চিনফিংকে একজন উদ্যোগী, আন্তরিক, সতর্ক, পরিশ্রমী, সাধাসিধে ও মুখচোরা মানুষ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। আরও বলা হয়, তিনি একজন বুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ যিনি সহজে কোন সমস্যা সমাধান করতে পারেন এবং কখনও উচ্চপদের ভাবগাম্ভীর্যে আবদ্ধ থাকেন না। জানা যায়, শি চিনফিং স্টিভেন স্পিলবার্গের সেভিং প্রাইভেট রায়ান ও মার্টিন স্করসিসের দ্য ডিপার্টেডের ভক্ত। আবার একই সাথে তিনি চীনের স্বাধীন নির্মাতা জিয়া ঝাংকেরও এখনও অনুরাগী।</p>



<p class="has-cyan-bluish-gray-color has-text-color has-small-font-size wp-block-paragraph"><em>Image Source : https://www.rochester.edu/newscenter/xi-jinping-president-party-congress-china-538832</em></p>
<p>The post <a href="https://chintavabna.com/xi-jinping-most-influential-leader/">চীনের প্রেসিডেন্ট : সি চিন পিং সবচেয়ে প্রভাবশালী নেতা</a> appeared first on <a href="https://chintavabna.com">চিন্তা ভাবনা</a>.</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://chintavabna.com/xi-jinping-most-influential-leader/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>জলবায়ু সম্মেলন কপ-২৬কি অর্জিত হলো</title>
		<link>https://chintavabna.com/cop26-climate-conference/</link>
					<comments>https://chintavabna.com/cop26-climate-conference/#comments</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[আবুল কাসেম হায়দার]]></dc:creator>
		<pubDate>Sun, 05 Dec 2021 14:33:12 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[বিবিধ]]></category>
		<category><![CDATA[International]]></category>
		<category><![CDATA[আন্তর্জাতিক]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://chintavabna.com/?p=752</guid>

					<description><![CDATA[<p>জলবায়ু নিয়ে আন্দোলন আজ বিশ্বজুড়ে বেশ সামনের স্থানে গিয়ে পৌছেচে। তরুণ সমাজ জলবায়ু ও এর প্রভাব, মানবজীবন ও জীবন যাপন অবস্থা নিয়ে বিশ্বের তরুণেরা বেশ&#8230; </p>
<p>The post <a href="https://chintavabna.com/cop26-climate-conference/">জলবায়ু সম্মেলন কপ-২৬&lt;BR&gt;কি অর্জিত হলো</a> appeared first on <a href="https://chintavabna.com">চিন্তা ভাবনা</a>.</p>
]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[
<p class="has-medium-font-size wp-block-paragraph">জলবায়ু নিয়ে আন্দোলন আজ বিশ্বজুড়ে বেশ সামনের স্থানে গিয়ে পৌছেচে। তরুণ সমাজ জলবায়ু ও এর প্রভাব, মানবজীবন ও জীবন যাপন অবস্থা নিয়ে বিশ্বের তরুণেরা বেশ সোচ্চার। কপ-২৬ সম্মেলনে গ্লাসগোতে কিনা ঘটলো। প্রতিদিন আন্দোলন, প্রতিবাদ, দাবি উচ্চারিত হয়েছে। নতুন নতুন প্রতিবাদ কর্মসুচি সকলের বেশ দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। ধনী দেশ সমূহের নেতাদের বিবেকে কিছুটা হলেও জাগরণ, চিন্তা সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছে। আন্দোলনকারী তরুণ দল বিশ্বের বিবেকবান মানুষের নিকট কিছুটা হলেও পানি দিয়ে ভিজানোর চেষ্টা করেছে। আগামীতে হয়তো কপ-২৭ সফলতার দ্বারে উপনীত হবে। মিশরে এই সম্মেলন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।<br></p>



<p class="has-medium-font-size wp-block-paragraph"><strong>গ্লাসগো ঘোষণা ঐতিহাসিকআপসের দলিল:</strong><br>জলবায়ু সম্মেলনের গ্লাসগো চুক্তিকে সম্মেলনের (কপ ২৬) সভাপতি ব্রিটিশ মন্ত্রী অলোক শর্মা ঐতিহাসিক অভিহিত করলেও তা যে একটি আপসের দলিল, সে কথা বলেছেন খোদ জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। গ্লাসগোতে কী অর্জিত হয়েছে, তা বলতে গিয়ে অধিবেশনকক্ষেই একজন প্রতিনিধি বলেছেন, ‘আমি আশাবাদী মানুষ হিসেবে গ্লাসটিকে অর্ধেক খালি না বলে অর্ধেক ভরা হিসেবে বর্ণনা করব। বস্তুত সেটাই ঘটেছে।’<br>কিছু ভালো সিদ্ধান্ত নিশ্চয়ই পাওয়া গেছে, যেগুলোকে রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক স্বার্থে কেউ কেউ যুগান্তকারী বলে দাবি করছেন। তবে নিজেদের অস্তিত্ব নিয়ে যাঁরা চিন্তিত, যাঁরা সত্যিই বিশ্বাস করেন, একটি দিনের বিলম্বও পূরণ করা অসম্ভব হয়ে পড়বে, তাঁদের হতাশা ও ক্ষোভ মোটেও উপেক্ষণীয় নয়। বিপন্নবোধ করেছে জলবায়ু– ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলো। তাদের কথা প্রতিধ্বনিত হয়েছে মালদ্বীপের প্রতিনিধির কণ্ঠে যখন তিনি বলেন, মালদ্বীপের জন্য এতে খুব দেরি হয়ে যাবে।<br>সরকারি প্রতিনিধিরা কূটনৈতিক রীতিনীতির কারণে অনেক কথাই বলতে পারেন না। কিন্তু নাগরিক গোষ্ঠীগুলোর প্রতিনিধিরা তা বলতে পারেন, বিশেষ করে গণতান্ত্রিক সমাজে। বিশ্বের বৃহত্তম পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর জোট কপ ২৬ কোয়ালিশনের মুখপাত্র আসাদ রেহমান বলেছেন, এই চুক্তি জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা। জলবায়ুজনিত জরুরি অবস্থার বিষয়ে ধনী দেশগুলোর ফাঁকা বুলিতে বিজ্ঞান এবং ন্যায়বিচার চরমভাবে উপেক্ষিত হয়েছে। ধনী দেশগুলো তাদের কারণে সৃষ্ট সমস্যায় সংকটে পড়া দরিদ্র দেশগুলোর অর্থায়নের প্রশ্নে ফাঁপা প্রতিশ্রুতি দিয়ে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে।<br>সম্মেলন থেকে যেসব পদক্ষেপের ঘোষণা এসেছে, তার মধ্যে আছে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির হার দেড় ডিগ্রি সেলসিয়াস সীমিত রাখার লক্ষ্য অর্জনের প্রতি অঙ্গীকার; অভিযোজন, অর্থাৎ জলবায়ুজনিত দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রস্তুতি ও ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় অর্থায়ন দ্বিগুণ করার অঙ্গীকার; জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলো যে অপূরণীয় ক্ষতির শিকার হয়েছে, তাদের ক্ষতিপূরণে যে বাড়তি সহায়তা প্রয়োজন, তার স্বীকৃতি এবং প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য স্বল্প সুদে ঋণ দিতে উৎসাহিত করা। কার্বন গ্যাসের লেনদেনে স্বচ্ছতা ও নিরীক্ষার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে প্যারিস রুল বুক নামে পরিচিত বিধিমালাও চূড়ান্ত হয়েছে গ্লাসগো সম্মেলনে। সর্বোপরি, এখন গ্রিনহাউস গ্যাস কমানোসহ সংকট মোকাবিলায় প্রতিটি দেশকে প্রতিবছর তাদের জাতীয় ভ‚মিকার অঙ্গীকার বা এনডিসি হালনাগাদ করতে হবে, যাতে বার্ষিক পর্যালোচনার কারণে বড় দূষণকারীদের ওপর কিছুটা চাপ বাড়বে।<br>এ ছাড়া সুনির্দিষ্টভাবে আরও কয়েকটি ঘোষণা এসেছে, সেগুলোর লক্ষ্য হচ্ছে কার্বনসহ অন্যান্য ক্ষতিকর গ্যাস উদ্গিরণ কমানোর লক্ষ্যে বন উজাড়করণ বন্ধ, মিথেন গ্যাস উদ্গিরণ বন্ধ, নেট জিরো (ক্ষতিকর গ্যাস নির্গমন যতটা হবে, বায়ুমন্ডল থেকে ততটাই অপসারণ করে ভারসাম্য আনা) অর্জনে বেসরকারি অর্থায়নের ব্যবস্থা করা। গতকাল কপ সভাপতি অলোক শর্মা বিবিসিকে জানিয়েছেন, গ্লাসগো সম্মেলনের আগে নেট জিরোর লক্ষ্য ঘোষণা করেছিল ৩০টি দেশ, যার সংখ্যা এখন দাঁড়িয়েছে ৯০।<br>গ্লাসগোয় অবশ্য কূটনৈতিক দিক দিয়ে এক চমকপ্রদ অগ্রগতি আছে, যা জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় ভবিষ্যতে ইতিবাচক প্রভাব রাখবে বলেই সবার ধারণা। প্রায় সব বিষয়ে বিপরীত মেরুতে অবস্থান নেওয়ায় অভ্যস্ত চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের বিস্ময়কর সহযোগিতার ঘোষণা গ্রিনহাউস গ্যাস কমানো ও বনাঞ্চল রক্ষার ক্ষেত্রে যেমন আশা জাগিয়েছে, তেমনই ভবিষ্যৎ সম্পর্কে আশাবাদী করেছে। তবে সবচেয়ে বেশি আলোচিত হচ্ছে যে সিদ্ধান্তটি, সেটি হলো কয়লা ও জীবাশ্ম জ্বালানিতে ভর্তুকি অবসায়নের প্রস্তাব। শেষ মুহূর্তে ভারতের আনা সংশোধনী পর্যায়ক্রমে অবসায়নের (ফেজ আউট) বদলে পর্যায়ক্রমে কমানো (ফেজ ডাউন) নিয়ে যথেষ্ট নাটকীয়তাও দেখা গেছে। গত ৩০ বছরে অর্থাৎ আগের ২৫টি কপ সম্মেলনে কখনোই জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমানো বা ভর্তুকির ইতি ঘটিয়ে তা নিরুৎসাহিত করার কথা আনুষ্ঠানিক ঘোষণায় স্থান পায়নি। কিন্তু এবার এগুলোর অন্তর্ভুক্তিকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।<br>গ্লাসগো সম্মেলনের খসড়াটি গৃহীত হওয়ার পর জাতিসংঘ মহাসচিব গুতেরেস তাঁর বিবৃতিতে বলেছেন, এসব পদক্ষেপকে স্বাগত জানাতে হয়, কিন্তু এগুলো যথেষ্ট নয়। জরুরি অবস্থায় যা করণীয়, তা না করলে নেট জিরোতে পৌঁছানোর সম্ভাবনা শূন্য। তিনি বলেছেন, এই বিবৃতিতে বিভিন্ন স্বার্থ, পরিস্থিতি, দ্ব›দ্ব এবং বর্তমান বিশ্বের রাজনৈতিক আকাক্সক্ষার প্রতিফলন ঘটেছে। তাঁরা গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছেন, কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে, গভীর দ্ব›দ্বগুলো কাটিয়ে ওঠার মতো যথেষ্ট সম্মিলিত রাজনৈতিক ইচ্ছার অভাব ছিল।<br>সম্মেলনে যা অর্জিত হয়নি, সেগুলোরও উল্লেখ পাওয়া যায় জাতিসংঘ মহাসচিবের বিবৃতিতে। এগুলো হলো জীবাশ্ম জ্বালানিতে ভর্তুকি বন্ধ করা, কয়লার অবসান, ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীগুলোর প্রতিরোধক্ষমতা তৈরি করা এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর সহায়তায় ১০ হাজার কোটি ডলার অর্থায়নের অঙ্গীকার পূরণ।<br>শীর্ষ দূষণকারী শিল্পোন্নত দেশগুলো এবং কম দূষণকারী কিন্তু সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর মধ্যে আস্থার সংকট সম্মেলনের পুরোটা সময় জুড়ে শোনা গেছে। ধনী দেশগুলো কয়লাসহ জীবাশ্ম জ্বালানি দেদার ব্যবহার করে জলবায়ুর যে ক্ষতি করেছে, তার ঐতিহাসিক দায় গ্রহণ না করলেও গরিব ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর কাছে ক্ষতিকর গ্যাস উদ্গিরণ বন্ধের জন্য চাপ প্রয়োগ করছে। ন্যায়বিচারের প্রশ্নটি তাই অনিষ্পন্ন থেকে যাচ্ছে।<br>১৩ নভেম্বর গ্লাসগো চুক্তি হয়েছে। ঠিক ৫১ বছর আগে (১২ ও ১৩ নভেম্বর) বাংলাদেশের উপক‚লে সবচেয়ে ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়টি আঘাত হেনেছিল। প্রাকৃতিক দুর্যোগের ভয়াবহতা বাংলাদেশের জন্য নতুন কিছু নয়। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর জোটের (সিভিএফ) নেতৃত্বেও এখন বাংলাদেশ। সিভিএফের সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশ দলের প্রতিনিধি সাংসদ সাবের হোসেন চৌধুরী গত শুক্রবার সম্মেলনে আহ্বান জানিয়েছিলেন যে জলবায়ু সংকটের আশু বিপদ বিবেচনায় নিয়ে সম্মেলনের সিদ্ধান্তকে গ্লাসগো জরুরি চুক্তি হিসেবে অভিহিত করা হোক। যে প্রত্যাশা থেকে তিনি প্রস্তাবটি দিয়েছিলেন তা পূরণ হয়েছে কি না, প্রথম আলোর এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি একে চরম হতাশাজনক হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, ইউএনএফসিসিসির বিদ্যমান কর্মপদ্ধতিতে আমাদের কতটা সাহসী ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ আছে, এখন সেই প্রশ্ন করার সময় এসেছে। কপ ২৬-এর ফলাফলে বিজ্ঞান যে কার্যক্রম দাবি করে, সেটাও যেমন প্রতিফলিত হয়নি, তেমনি প্রতিফলিত হয়নি আকাক্সক্ষা। সবাই সব বিষয়ে একমত না হওয়া পর্যন্ত কোনো সমঝোতা না হওয়ার নীতির মানে হচ্ছে আপসরফা-ন্যূনতম যতটুকু সম্মত হওয়া যাবে, ততটুকুই অর্জন।<br>বোঝাই যাচ্ছে এ ধরনের বহুজাতিক কাঠামোয় জরুরি অবস্থা মোকাবিলাও কঠিন সংগ্রামের বিষয়। সে কারণেই সম্মেলনে প্রতিনিধিদের অনেকেই বলেছেন, তাঁরা লড়াইটা আগামী জলবায়ু সম্মেলনে (কপ ২৭) মিসরের শারম-আল শেখে নিয়ে যাবেন। আর জাতিসংঘের মহাসচিব এক টুইটে তরুণদের উদ্দেশে বলেছেন, লড়াইয়ে তিনি তাঁদের সঙ্গে আছেন।</p>



<p class="has-medium-font-size wp-block-paragraph"><strong>কী আছে জলবায়ু চুক্তিতে:</strong><br>স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোয় জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক শীর্ষ সম্মেলন কপ ২৬ শেষ হয়েছে। প্রায় দুই সপ্তাহের আলোচনার পর অসন্তোষ থাকলেও, শেষ মুহূর্তে মতৈক্য হয়েছে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর। স্থানীয় সময় গত শনিবার রাতে এক চুক্তিতে প্রায় ২০০টি দেশ জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াই চালানো এবং ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে একমত হয়েছে। জিইয়ে রেখেছে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন দ্রæত কমিয়ে আনার প্রত্যাশা।<br><br><strong>বৈশ্বিক উষ্ণায়ন নিয়ে কথা:</strong><br>গ্লাসগো চুক্তিতে বৈশ্বিক উষ্ণায়নের জন্য দায়ী গ্রিনহাউস গ্যাসের নির্গমন কমাতে ও বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে সীমিত রাখতে প্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ করিয়ে দেশগুলোকে আগামী বছরের মধ্যে শক্তিশালী পরিকল্পনা প্রকাশ করতে বলা হয়েছে। তবে এই ক্ষেত্রে দেশগুলোকে কার্বন নিঃসরণের সুনির্দিষ্ট মাত্রা ঠিক করে দিতে ব্যর্থ হয়েছে গ্লাসগো সম্মেলন।<br>এই পরিস্থিতিতে বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে বলছেন, বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে সীমিত রাখা না গেলে সমুদ্রসীমার উচ্চতা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়বে। একই সঙ্গে বাড়বে খরা, ঝড়, দাবানলের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঘটনাও। কপ ২৬-এর চেয়ারম্যান ও ব্রিটিশ মন্ত্রী অলোক শর্মা বলেন, ‘আমরা যদি প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে পারি, তবেই নিজেদের রক্ষা করতে পারব।’<br><br><strong>কয়লার ব্যবহার নিয়ে অসন্তোষ:</strong><br>এবারের জলবায়ু সম্মেলনে প্রথমবারের মতো দেশগুলোকে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমানোর জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে কয়লার ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধের বিষয়ে জোর দিতে সফল হননি আলোচকেরা। বরং শেষ মুহূর্তে এই বিষয়ে ছাড় দিয়ে কয়লার ব্যবহার কমানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে চূড়ান্ত চুক্তিতে কয়লার ব্যবহার কমানো বা ‘ফেজ ডাউন’ করার ভাষাটি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আগের খসড়ায় তা বন্ধ করা বা ‘ফেজ আউট’ করার কথা ছিল। ভারতের পক্ষ থেকে এ পরিবর্তনের আহ্বান জানানো হয়েছিল। এমন পরিবর্তনে অসন্তোষ জানিয়েছে সুইজারল্যান্ডসহ কয়েকটি দেশ।<br><br><strong>ক্ষতিপূরণ নিয়ে বিরোধ:</strong><br>ধনী ও শিল্পোন্নত দেশগুলো ২০২০ সালের মধ্যে জলবায়ু তহবিলে বছরে ১০০ বিলিয়ন ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে পারেনি। ফলে অনেক উন্নয়নশীল ও ক্ষতিগ্রস্ত দেশের অভিযোজন প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে পিছিয়ে রয়েছে। গ্লাসগোর চূড়ান্ত চুক্তিতে ২০২৫ সালের মধ্যে ধনী দেশগুলোকে জলবায়ু তহবিলে বরাদ্দের পরিমাণ অন্তত দ্বিগুণ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।<br><br><strong>কার্বন নিঃসরণের দায়</strong><br>জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে গরিব ও উন্নয়নশীল দেশগুলো। তবে বেশি বেশি কার্বন নিঃসরণের মাধ্যমে এর পেছনে দায়ী ধনী ও শিল্পোন্নত দেশগুলো। চূড়ান্ত চুক্তিতে বেশি কার্বন নিঃসরণকারী দেশ ও কোম্পানিগুলোকে দায় মেটাতে অর্থায়ন করতে বলা হয়েছে। এসব অর্থ ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোয় বনের ধ্বংস ঠেকানো, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধিসহ জলবায়ু পরিবর্তন রোধে গৃহীত নানা উদ্যোগের বাস্তবায়নে ব্যয় করা হবে।<br><br><strong>আরও নানা চুক্তি:</strong><br>গ্লাসগোয় মূল সমঝোতার বাইরে আরও কয়েকটি চুক্তি সবার নজর কেড়েছে। এবারের সম্মেলনে জাতিসংঘ ও ইউনিয়নের নেতৃত্বে প্রায় ১০০টি দেশ ২০৩০ সালের মধ্যে মিথেন গ্যাসের নির্গমন গত বছরের মাত্রার তুলনায় ৩০ শতাংশ কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। সবচেয়ে বেশি কার্বন নিঃসরণকারী দুটি দেশ-যুক্তরাষ্ট্র ও চীন জলবায়ু পরিবর্তন রোধে পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে উদ্যোগ নিতে একমত হয়েছে। একই সঙ্গে ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীরা গ্যাসোলিনচালিত গাড়ি উৎপাদন বন্ধ, আকাশপথে ভ্রমণে কার্বন নিঃসরণ কমানো, বন রক্ষার মতো টেকসই উদ্যোগে অর্থ লগ্নি না করতে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে।<br><br><strong>‘জলবায়ু বিপর্যয়ের দরজায়</strong> <strong>কড়া নাড়ছি আমরা’:</strong><br>আসন্ন জলবায়ু বিপর্যয়সম্পর্কে সতর্ক করেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। তিনি বলেছেন, জলবায়ু বিপর্যয় সন্নিকটে। গ্লাসগো জলবায়ু চুক্তি বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে তিনি বলেছেন, ‘এটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ, তবে যথেষ্ট নয়।’ অন্যদিকে চুক্তি নিয়ে সুইডিশ জলবায়ু কর্মী গ্রেটা থুনবার্গ টুইট করে বলেছেন, কপ ২৬ শেষ হলো। এবারের সম্মেলনের সারসংক্ষেপ হলো, বøা, বøা, বøা ।<br>যাঁরা গ্লাসগো জলবায়ু চুক্তিতে স্বাগত জানিয়েছেন তাঁরাও বলেছেন, এখনো এ নিয়ে অনেক কাজ বাকি আছে। গত শনিবার রাতে গ্লাসগো চুক্তির পর এক বিবৃতিতে গুতেরেস চুক্তির ত্রæটিগুলো স্বীকার করেছেন। তিনি টুইট করে বলেছেন, কপ ২৬-এর ফলাফল হলো একটি সমঝোতা, যা আজকের বিশ্বের স্বার্থ, দ্ব›দ্ব এবং রাজনৈতিক ইচ্ছার অবস্থা প্রতিফলন করে।<br>জাতিসংঘের মহাসচিব আরও বলেন, ‘এখন জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার উপযুক্ত সময়। জলবায়ু যুদ্ধ আমাদের জীবন বাঁচানোর লড়াই, যাতে আমাদের অবশ্যই জিততে হবে।’<br>জাতিসংঘ মহাসচিব সতর্ক করে বলেন, ‘আমাদের নাজুক বিশ্ব সুতার ওপর ঝুলছে। আমরা এখনো জলবায়ু বিপর্যয়ের দরজায়কড়া নাড়ছি।’<br>সুইডিশ জলবায়ু কর্মী গ্রেটা থুনবার্গ জলবায়ু চুক্তি নিয়ে আরও কড়া সমালোচনা করেছেন। তাঁর ভাষ্য, প্রকৃত কাজ হয়েছে সম্মেলনস্থলের বাইরে। তিনি বলেছেন, ‘আমরা কখনো হাল ছাড়ব না।’<br>সম্মেলন চলাকালে থুনবার্গসহ অন্য পরিবেশকর্মীরা অভিযোগ করেন, বিশ্বনেতাদের প্রতিশ্রুতির সঙ্গে বাস্তব পদক্ষেপের কোনো মিল নেই।<br>এদিকে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন জলবায়ু চুক্তিকে একটি ‘বঙপদক্ষেপ’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি আরও বলেন, এখনো অনেক কাজ বাকি রয়ে গেছে।<br>ইউরোপীয়কমিশনের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, চুক্তিটি ২০১৫ সালের প্যারিস জলবায়ু চুক্তির লক্ষ্যগুলোকে বাঁচিয়েরেখেছে। বৈশ্বিক উষ্ণতাকে ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে সীমিত করার সুযোগ দিয়েছে।<br>চুক্তিতে শেষ মুহূর্তে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের জন্য আহ্বান জানায় ভারত ও চীন। তারা কয়লার ব্যবহার ‘ফেজ আউট’ করার পরিবর্তে ‘ফেজ ডাউন’ করতে বলে। শেষ পর্যন্ত তা অনুমোদন পেলেও অনেক দেশ এতে সন্তুষ্ট হতে পারেনি। তারা অসন্তোষ প্রকাশ করেছে।<br>চুক্তি নিয়ে শনিবার রাতে এবারের সম্মেলনের প্রেসিডেন্ট অলোক শর্মা এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘কঠিন কাজ এখন শুরু হলো। আমরা বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি ১.৫ ডিগ্রিতে সীমিত রাখার লক্ষ্য টিকিয়ে রাখতে সক্ষম হয়েছি। তবে আমি এখনো বলছি যে ১.৫ ডিগ্রির যে নাড়ি আমরা পাচ্ছি, তা দুর্বল। আমরা যদি প্রতিশ্রুতি রক্ষা করি, তবেই এটি টিকবে।’<br>চুক্তি নিয়ে মার্কিন জলবায়ু দূত জন কেরি বলেন, প্যারিস ক্ষেত্র তৈরি করেছিল এবং গ্লাসগোর দৌড় সেখান থেকে শুরু হয়েছে। শনিবার রাত থেকে সে দৌড় শুরু হলো।<br>চীনের আলোচক ঝাও ইংমিন বলেছেন, ‘আমাদের সবচেয়েবড়সাফল্য হল রুলবুক চূড়ান্ত করা।’<br><br><strong>আমাদের করণীয় :</strong><br>উন্নয়নশীল দেশ হিসাবে বাংলাদেশ জলবায়ুগত পরিবর্তনের ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। ইতিমধ্যে দেশে না দুর্যোগ প্রতি বছর জনগণ জোগার করছে। এ আস্থার পরিবর্তনের জন্য জনগণও সরকারকে অনেক বেশি করণীয় কর্তব্য রয়েছে।<br><span style="text-decoration: underline;">প্রথমত:</span> আমাদের দেশের মানুষকে জানাতে হবে জলবায়ুগত দূষণের ফলে দেশ ও জনগণ কিভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। মানুষ সতর্ক করতে হবে। প্রয়োজনীয় সতর্কতা ও প্রস্তুতি গ্রহণে তৈরি করতে হবে।<br><span style="text-decoration: underline;">দ্বিতীয়ত: </span>সব কারণে গবেষক, কর্তৃক প্রয়োজনীয় কর্তব্য নির্ধারণের জন্য একটি বিশেষ ‘সেল’ গঠন করতে হবে। সেই সেল থেকে নিয়মিত সতর্কতা ও করণীয় পরামর্শ সরকার ও দেশবাসীকে দিতে হবে।<br><span style="text-decoration: underline;">তৃতীয়ত:</span> আন্তর্জাতিক বড় বড় শক্তির কার্যকরণে জলবায়ুগত পরিবর্তন দেশে দেশে ঘটছে। তারই প্রভাবে আমাদের দেশে ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ¡াস, বন্যা প্রভৃতি নিয়মিত হচ্ছে। তাতে দেশের সম্পদ ও মানুষের ক্ষতি হচ্ছে। সেই ক্ষতি পূরণের জন্য চাহিদাপত্র তৈরি করে আন্তর্জাতিক ফোরামে নিয়মিত উপস্থাপন করে আদায় করতে হবে। ক্ষতিগ্রস্থ মানুষের নিকট তার ক্ষতি অর্থ সহজে, স্বল্প সময়ে পৌছে দেয়ার ব্যবস্থা থাকতে হবে।<br>কপ-২৬ এ গৃহিত পদক্ষেপ সমূহ কিভাবে আমাদের দেশে কার্যকরী হবে, তার ব্যবস্থা এখন থেকে দ্রæত গ্রহণ করা প্রয়োজন। শুধু ধনী দেশসমূহের উপর নির্ভর না করে। নিজেদের শক্তি ও সামর্থ্যরে উপর বিশ্বাস রেখে অগ্রসর হতে হবে।<br>জলবায়ু সংক্রান্ত নেতিবাচক প্রভাব থেকে মুক্তির জন্য আমাদের বনায়নে অনেক বেশি মনোযোগী হতে হবে। প্রতিবছর পরিকল্পনা অনুযায়ী বৃক্ষ রোপণ কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। শুধু বৃক্ষ রোপন দিবস পালন করে বসে থাকলে চলবে না, বাস্তবায়নে আরও বেশি সময় ও অর্থ ব্যয় করতে হবে। আমাদের জনসংখ্যা, জমি অনুযায়ী বনায়ন অনেক কম। তাই জলবায়ু পরিবর্তনে দেশের নানা বিপর্যয় নেমে আসে। অতি বৃষ্টি, অনাবৃষ্টি, বন্যা প্রভৃতি বনায়নে ভ‚মিকা রাখে।<br>তাছাড়া নদী এলাকায়, দ্বীপ অঞ্চলের ভাঙ্গন রোধের জন্য বনায়ন ব্যাপক সৃষ্টি জরুরী। সরকার প্রতি বছর ঘটা করে বৃক্ষ রোপন দিবস পালন করে দেশবাসীকে সচেতন হওয়ার চেষ্টা করছে। বৃক্ষরোপনের ফলে দেশের জমি দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। উদাহরণ হিসাবে চট্টগ্রাম জেলার সন্দ্বীপ উপজেলার কথা বলা চলে। সন্দ্বীপের পশ্চিম ও উত্তর ভাগ দিয়ে শত শত একর জমি মূল ভ‚খন্ডের সঙ্গে ইতিমধ্যে যোগ হয়েছে। সেখানে সরকার রপতানি প্রক্রিয়াজাত অঞ্চল করার উদ্যোগ নিয়েছে। অচিরে সন্দ্বীপে একটি আধুনিক রফতানি অঞ্চল সৃষ্টি হচ্ছে। যা সরকারের একশত রফতানি অঞ্চলের একটি হবে।</p>
<p>The post <a href="https://chintavabna.com/cop26-climate-conference/">জলবায়ু সম্মেলন কপ-২৬&lt;BR&gt;কি অর্জিত হলো</a> appeared first on <a href="https://chintavabna.com">চিন্তা ভাবনা</a>.</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://chintavabna.com/cop26-climate-conference/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>1</slash:comments>
		
		
			</item>
	</channel>
</rss>

<!--
Performance optimized by W3 Total Cache. Learn more: https://www.boldgrid.com/w3-total-cache/?utm_source=w3tc&utm_medium=footer_comment&utm_campaign=free_plugin

Page Caching using Disk: Enhanced 

Served from: chintavabna.com @ ২০২৬-১০-২৭ ০১:০৭:৫৯ by W3 Total Cache
-->