Proposed Padma Barrage Bangladesh

পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণ অনুমোদন সরকারের সাহসী পদক্ষেপ

পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণ প্রকল্প তারেক রহমান সরকার এর ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত এবং একনেকে পাশের মাধ্যমে বহুদিনের স্বপ্ন বাস্তবায়নের এক ধাপ অগ্রসর হয়েছে। ১৩ মে ২০২৬ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে জাতীয় অর্থনৈতিক কমিটির (একনেক) সভায় পদ্মা ব্যারাজ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। একটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত, ঐতিহাসিক ও দৃঢ় সিদ্ধান্ত জাতিকে আজ আশ্বস্ত করেছে।
দীর্ঘ সাড়ে ছয় দশকের পর এই সিদ্ধান্ত জাতীয় জীবনে গতি আনবে। সমীক্ষার পর সমীক্ষা চলেছে এই পদ্মা বারাজ নিয়ে। কিন্তু দীর্ঘদিনেও তা আলোর মুখ দেখেনি। নানা বাধা, সমীক্ষা বছরের পর বছর কেটেছে। ভারতের বাধার মুখে এই প্রকল্প ছিল অনিশ্চিত। নতুন এই সরকারের প্রথম মেগাপ্রকল্প অর্থনীতিতে গতি আনবে। দেশি বিদেশি বিনিয়োগকে এগিয়ে নেওয়ার এইটি বড় উদ্যোগ।
কি সেই পদ্মা ব্যারাজ:
বাংলাদেশের বির্স্তীর্ণ এলাকা শুষ্ক মৌসুমে মরুকরণের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য রাজবাড়ীর পাংশা এলাকায় ২ দশমিক ১ কিলোমিটার দীর্ঘ পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণের প্রথম ধাপ বাস্তবায়নের জন্য একনেকে ৩৪ হাজার ৪৯৭ কোটি ২৫ লক্ষ টাকার প্রকল্প অনুমোদন করা হয়। এই মেগাপ্রকল্পের নির্মাণকাল ধরা হয়েছে ২০২৬ সাল থেকে ২০৩৩ সাল পর্যন্ত।

কেন পদ্মা ব্যারাজ:
একনেক বৈঠকে পদ্মা ব্যারাজ নিয়ে বিস্তর আলোচনা হয়। প্রকল্পের উপকারিতা ও কার্যকারিতা নিয়ে আলোচনা শেষে অনুমোদিত হয়। মূলত: ফারাক্কা বাঁধের কারণে শুষ্ক মৌসুমে পানির যে সংকট তৈরি হয় তা থেকে কিছুটা রক্ষা পাওয়ার জন্য পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পটি সরকার বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। বিগত এপ্রিল ২৬ একনেকে এই প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য পেশ করা হয়েছিল । পরে অবশ্য তা প্রত্যাহার করা হয়।
পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগ:
পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের একটি নিজস্ব পরিকল্পনা। পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানির একান্ত তত্ত্বাবধানে এই প্রকল্প অনুমোদিত হলে দেশের ২৪টি জেলার পানির সুরক্ষার জন্য এই বিশাল প্রকল্প গ্রহণ। সময়ের প্রয়োজনে প্রকল্পটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও প্রয়োজনীয়। পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়কে ধন্যবাদ ও অভিনন্দন। দেশের মানুষের কল্যাণে সরকারের প্রথম তিন মাসের মধ্যে এই মেগা প্রকল্প গ্রহণের জন্যে। চলতি বছরের শুরু থেকে ২০৩৩ সালের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে পানি উন্নয়ন বোর্ড (বাপাউবো)। প্রকল্পটির মোট প্রাক্বলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৫০ হাজার ৪৪৩ কোটি ৬৪ লক্ষ টাকা। তবে প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটি ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের প্রস্তাব করেছে। প্রধম ধাপে ৩৪ হাজার ৪৯৭ কোটি ২৫ লক্ষ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্তমান সিদ্ধান্ত রয়েছে প্রকল্পটির ব্যয় পুরোটা সরকারি তহবিল থেকে করা হবে।
প্রকল্প থেকে সুফল মিলবে :
পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে পদ্মা নদীতে ২ হাজার ৯০০ মিলিয়ন বা ২৯০ কোটি ঘনমিটার পানি সংরক্ষিত হবে। এই সংরক্ষিত পানি দিয়ে দেশের পাঁচটি নদী নতুন করে পূনরুজ্জীবিত হবে। নদী গুলো হচ্ছে- হিসনা, মাথা ভাঙা, গড়াই-মধুমতি, চন্দনা-বারাশিয়া, বড়াল ও ইছামতি নদী। শুষ্ক মৌসুমেও এই সব নদীতে প্রায় ৮০০ কিউসেক পানি সরবরাহ করা হবে। এর ফলে পানি ব্যবস্থাপনায় ব্যাপক পরিবর্তন আসবে।
পদ্মা ব্যারাজের মাধ্যমে সংরক্ষিত পানি দিয়ে হিসনা, মাথা ভাঙা, গড়াই-মধুমতি, চন্দনা-বারাশিয়া, বড়াল ও ইছামতি নদী পুনরুজ্জীবিত করা যাবে।
এই প্রকল্প করার ফলে কুষ্টিয়া, ফরিদপুর, যশোর, খুলনা, বরিশাল, পাবনা ও রাজশাহী অঞ্চলের প্রায় ১৯ লক্ষ হেক্টর জমিতে চাষের জন্য পানি সরবরাহ নিশ্চিত হবে। প্রকল্পে আরও বলা হয়েছে ২৪ লক্ষ টন ধান ও ২ দশমিক ৩৪ লক্ষ টন মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বছরে ৮ হাজার কোটি টাকার সামাজিক ও অর্থনৈতিক সুবিধা দেশবাসী পাবে। দেশের পানি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুয়ায়ী পানির সংকট ভবিষ্যতে বৃদ্ধি পাবে। সুন্দরবন এলাকায় লবনাক্ততা বৃদ্ধি পাবে। স্বাদু পানির অভাব দেখা দেবে। এই সকল কারণে পদ্মা ব্যারাজ অত্যন্ত জরুরি।
কী থাকবে পদ্মা ব্যরাজে:
পদ্মা ব্যারাজের প্রথম ধাপে রাজবাড়ীর পাংশায় ২ দশমিক ১ কিলোমিটার নির্মাণ করা হবে। এই ব্যারাজে থাকবে ৭৮টি স্পিলওয়ে, ১৮ টি আন্ডার সুইসগেট, মাছ চলাচলের জন্য থাকবে ২টি ফিস পাস, একটি নেভিগেশন লক এবং গাইড ও সংযোগ বাঁধ ।
কেন এই প্রকল্পের উদ্যোগ :
ভারতে পশ্চিমবঙ্গে ফারাক্কা বাধ নির্মাণ করে সত্তর দশকে। যার ফলে পদ্মার পানি প্রবাহ বাংলাদেশে ভয়াবহভাবে কমে যায়। পদ্মার সঙ্গে সংযুক্ত ছয়টি নদীর পানি শুকিয়ে যায়। ফলে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কৃষি, মৎস, নৌ-চলাচলের মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হয়। অন্যদিকে জীববৈচিত্র্য হারিয়ে যায়।
এছাড়া বৃহত্তর রাজশাহী পাবনা, কুষ্টিয়া,যশোর,খুলনা, ফরিদপুর ও বরিশাল জেলার মানুষের একমাত্র সুপেয় পানি পদ্মার পানি। এজন্য বর্ষার পানি ধরে রেখে শুষ্ক মৌসুমে নিয়ন্ত্রিত পানি সরবরাহের জন্য পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণ করা জরুরি। এই প্রকল্পটি গঙ্গানির্ভর এলাকায় পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনায় মাস্টারমাইন্ড হিসেবে কাজ করবে। এটি গঙ্গা নদী ব্যবস্থা থেকে পানিপ্রবাহ পুনরুদ্ধারে ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে পলি জমা কমানো হবে। শুষ্ক মৌসুমে পানি সরবরাহ নিশ্চিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
স্বপ্ন দেখা ১৯৬০ সাল :
আজ নতুন করে পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প আলোচনায় নয়। ১৯৬০ সাল থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত সম্ভাব্য স্থান নির্ধারণে চারটি সমীক্ষা পরিচালিত হয়। প্রায় ২৫ বছর পূর্বে বিএনপি সরকার পদ্মা নিয়ে কাজ শুরু করে। পরে ২০০৫ সালে পদ্মা পদ্মা ব্যারাজের সম্ভাব্যতা যাচাই শুরু করে। স্থানীয় বিদেশি একটি টিম এই প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই সমীক্ষা ২০১৩ সালে শেষ করে।
১৯৯৭ সালে পদ্মা ব্যারাজের স্থান নির্ধারণের সঙ্গে জড়িত ছিলেন পানি বিশেষজ্ঞ ড. আইনুন নিশাত । তখন বাঁধটি তৈরির প্রতিশ্রুতি ভারত সরকার দিয়েছিল। পরবর্তীতে ভারত সরকার নানা রাজনৈতিক মেরুকরণে প্রকল্পের কাজে ভারত এগিয়ে আসেনি। ভারত মূলত বাংলাদেশের উন্নতি চায় না। কোনো ভালো উদ্যোগকে তাই ভারত সহযোগিতা না করে নানা ভাবে বাধার সৃষ্টি করে। যেমন করছে তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে। রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক ইস্যু তৈরি করে ভারত তিস্তা প্রকল্পের কাজে বাধা দিয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে তিস্তার পানি চুক্তিও ভারত করছে না।
বিগত বিএনপি সরকারের আমলে ২০০২ সালে পদ্মা ও তিস্তা প্রকল্প নিয়ে বেশ আলোচনা হয়। কিন্তু নানা জটিলতায় তা আলোর মুখ দেখেনি। পরে ২০০৯-২০১৩ সালে পর্যন্ত বাংলাদেশ অষ্ট্রেলিয়া ও পাকিস্তানের বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে প্রকল্প তৈরির সম্ভাব্যতা যাচাই করা হয়। এরপর ২০১৬ সাল পর্যন্ত পানি উন্নয়ন বোর্ড এ প্রকল্পটির নকশা প্রণয়নের কাজ করে।
প্রথম ধাপে কি কাজ :
পদ্মা ব্যরাজ প্রকল্পের সার সংক্ষেপে বলা হয়েছে পদ্মা ব্যারাজ ও গড়াই অফটেক এলাকায় জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। এই কেন্দ্র থেকে ১১৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রথম ধাপে ১৩৫ দশমিক ৬ কিলোমিটার দীর্ঘ গড়াই-মধুমতি নদী এবং ২৪৬ দশমিক ৪৬ কিলোমিটার হিসনা নদী ব্যবস্থাপনার ড্রেজিং ও মুখখননের কাজ করা হবে। অন্যান্য কাজের মধ্যে অফটেক, ফিশ পাস, নেভিগেশন লক ও ৩৬ দশমিক ৬ মেগাওয়াট ক্ষমতার জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ। পাশাপাশি চন্দনা অফটেকে চারটি স্পিলওয়ে, হিসনা অফটেকে পাঁচটি স্পিলওয়ে এবং ১৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ অ্যাফ্লাক্স বাঁধ নির্মাণ করা হবে। হিসনা অফটেকে হিসনা মাথাভাঙ্গা নদী ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
কি কি উপকারে আসবে :
এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে কৃষি ও মৎস্যখাতে উৎপাদন বৃদ্ধিতে বেশ ভূমিকা রাখবে। প্রতি বছর ধান উৎপাদন প্রায় ২৩ লাখ ৯০ হাজার টন এবং মৎস্য উৎপাদন প্রায় ২ লাখ ৩৪ হাজার টন বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। কর্মসংস্থান সৃষ্টির ক্ষেত্রে এই প্রকল্প বড় ভূমিকা রাখবে।
পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প বাংলাদেশের মোট এলাকার ৩৭ শতাংশ যা দেশের ২৬ জেলার ১৬৩ উপজেলায় বিস্তৃত। তবে প্রথম ধাপ বাস্তবায়িত হলে খুলনা, ঢাকা, রাজশাহী ও বরিশাল বিভাগের অবহেলিত অন্তত ১৯ জেলার ১২০ উপজেলা সরাসরি উপকৃত হবে। জেলাগুলো হচ্ছে-কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ, মাগুরা, যশোর, নড়াইল, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা, রাজবাড়ী, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, পাবনা, রাজশাহী, নাটোর, নওগাঁ, চাপাইনবাবগঞ্জ, এবং পিরোজপুর।
দ্বিতীয় ধাপে অতিরিক্ত সহায়ক অবকাঠামো নির্মাণ এবং চন্দনা-বারাশিয়া, বড়াল ও ইছামতি নদী ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের কাজ করা হবে।
ভারতের কি বলার আছে:
ভারত আমাদের প্রতিবেশি দেশ, বন্ধু দেশ। বাংলাদেশের উন্নয়নে ভারত খুশী হবে, খুশী হওয়া উচিত। তাই পানি সম্পদমন্ত্রী সরাসরি বলেছেন, পদ্মা ব্যারাজ, নিয়ে ভারতের সঙ্গে আলোচনার কিছুই নেই। ঠিক বলেছেন। এটি আমাদের নিজস্ব পরিকল্পনা ও উদ্যোগ। দেশের কল্যাণে সরকার এই সাহসী উদ্যোগ নিয়েছেন-দেশবাসী আনন্দিত। ধন্যবাদ তারেক রহমান সরকারকে। ইতোমধ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী পদ্মা ব্যারাজ এর সঙ্গে সঙ্গে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের ঘোষণা ২০ মে ২৬ তারিখে দিয়েছেন। প্রশংসিত ও সাহসী ঘোষণা।
পদ্মা ব্যারাজে অর্থায়ন:
সরকার প্রাথমিকভাবে পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প নিজস্ব অর্থ থেকে বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছেন। তবে এই পরিকল্পনা ভালো। সাহসী উদ্যোগ। প্রশংসা করি। তবে নিজস্ব অর্থায়নের উপর সম্পূর্ণ নির্ভর না করে বেশ কিছু অংশ বিশ^ ব্যাংক, আইএমএফ সহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে ঋণ নেয়ার চেষ্টা করা উচিত। তাতে দেশের অর্থনীতিতে চাপ কম পড়বে। বিদেশি বিনিয়োগ হলে তদারকি ভালো হবে। উন্নত প্রযুক্তি ও জনবলের ফলে মানসম্পন্ন প্রকল্প তৈরি হবে। দেশ উপকৃত হবে।

Abul Quasem Haider
আবুল কাসেম হায়দার

সাবেক সহ সভাপতি এফবিসিসিআই, বিটিএমইএ, বিজিএমইএ , বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতি, প্রতিষ্ঠতা চেয়ারম্যান ইস্টার্ন ইউনির্ভাসিটি ও ইসলামিক ফাইন্যান্স এন্ড ইনভেস্টমেন্ট লি:, অষ্ট্রেলিয়ান ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, আবুল কাসেম হায়দার মহিলা কলেজ সন্দ্বীপ, চট্টগ্রাম, সাবেক সিনেট সদস্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

তিনি আজীবন সদস্য : এশিয়াটিক সোসাইটী বাংলাদেশ, বাংলা একাডেমী, চট্টগ্রাম সমিতি, সন্দ্বীপ সমিতি ঢাকা ।

লেখক দৈনিক আজকের আওয়াজ ও সাপ্তাহিক প্যানোরামা সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন।

5 1 vote
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments